সাংগঠনিক দুর্বলতায় একটিতে বিএনপির হার
: শেষ পৃষ্ঠার পর দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক। দলীয় প্রভাব, পারিবারিক ঐতিহ্য ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণে তিনি প্রায় ৩২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান। ফরিদপুর-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩২ হাজার ৬২১ জন। ছয়জন প্রার্থী অংশ নেন। বিএনপির দীর্ঘদিনের ঘাঁটি এই আসনে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শূরা সদস্য মো. আবদুত তাওয়াব দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৫ ভোট পান। প্রায় ২৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় এলেও অনেকে মনে করেন, এটি তার পিতা সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের সময়ের তুলনায় কম ব্যবধান। পুরোনো ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের ঘাটতি, বিতর্কিতদের প্রাধান্য, দলে হাইব্রিড অনুপ্রবেশ, আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতাদের প্রতি আগ্রহ এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা এ ব্যবধান কমার কারণ হিসেবে আলোচিত। স্থানীয় বিভেদ ও কিছু নেতাকর্মীর সংগঠনবিরোধী কার্যক্রমও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও নিজ দলের নেতাকর্মীদের ভোট না দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। ফরিদপুর-৪ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৭০৬ জন। আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মো. সরোয়ার হোসাইন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৭৫ হাজার ৮০৫ ভোট পান। বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ফরিদপুর-২ থেকে ফরিদপুর-৪ আসনে এসে প্রায় ৫১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন শহিদুল ইসলাম বাবুল। ভাঙ্গা উপজেলার আলগি ইউনিয়ন ফরিদপুর-৪ থেকে কেটে ফরিদপুর-২ এ নেওয়ার প্রতিবাদে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে তার সক্রিয় ভূমিকা জনগণের মধ্যে সাড়া ফেলে। নিয়মিত গণসংযোগ ও রাজনৈতিক কৌশলও তার জয়ে ভূমিকা রাখে। বিশ্লেষকদের মতে, দল তার ওপর যে আস্থা রেখেছিল, তিনি তার প্রতিদান দিতে সক্ষম হয়েছেন।
সম্পাদক : সন্তোষ শর্মা
প্রকাশক: মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু