ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়লে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব হয়ে ওঠে কাঠামোগত। এমনকি আংশিক বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি থাকলেও ব্যারেলপ্রতি ২০ থেকে ৪০ ডলারের ‘ভূরাজনৈতিক প্রিমিয়াম’ যুক্ত হতে পারে
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে
কালবেলা ডেস্ক 8 ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি। এই প্রণালি অবরোধ হলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ থেকে ১১০ ডলারে উঠে যেতে পারে বলে ভারতের ইকুইরাস সিকিউরিটিজের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ অর্থাৎ প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল ও বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত গ্যাস পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। পারস্য উপসাগরে যাওয়ার একমাত্র সামুদ্রিক প্রবেশপথ এটি, যার এক পাশে ইরান ও অন্য পাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ফলে ইরানকে ঘিরে যে কোনো সংঘাতে এই প্রণালি কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বর্তমানে ইরানের দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৩ শতাংশ। চলমান উত্তেজনার মূল বিষয়ই হচ্ছে এই তেল। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ১ শতাংশ সরবরাহ ব্যাহত হলে তেলের দাম সাধারণত ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সে হিসেবে শুধু ইরানের তেল সরবরাহ ব্যাহত হলেই অপরিশোধিত তেলের দাম ৯ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। খবর এনডিটিভির। বর্তমান ভিত্তিমূল্য ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলার ধরা হলে শুধু সরাসরি সরবরাহ কমার কারণেই তেলের দাম ৬ থেকে ১১ ডলার বাড়তে পারে, যা দামকে ৭৬ থেকে ৮১ ডলারে নিয়ে যেতে পারে। তবে সংঘাতের প্রভাব বাজারে কতটা পড়বে, তা সবসময় সরল গাণিতিক নিয়মে নির্ধারিত হয় না। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়লে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব হয়ে ওঠে কাঠামোগত। এমনকি আংশিক বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি থাকলেও ব্যারেলপ্রতি ২০ থেকে ৪০ ডলারের ‘ভূরাজনৈতিক প্রিমিয়াম’ যুক্ত হতে পারে। ফলে তেলের দাম আবারও ৯৫ থেকে ১১০ ডলার বা তারও বেশি হতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে। এর আগে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস সতর্ক করেছিল, ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তামূল্যে এর বড় প্রভাব পড়বে, বিশেষ করে খাদ্য, পোশাক ও রাসায়নিকের মতো পণ্যে। ক্রাইসিস গ্রুপের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে প্রণালি বন্ধ ঘোষণা না করেও তেহরানের হাতে বিভিন্ন অস্ত্র আছে। এর মধ্যে আছে ট্যাংকার চলাচলের ক্ষেত্রে হয়রানি, সামরিক মহড়ার সময় সাময়িক নৌ চলাচল সীমাবদ্ধ করা, ড্রোন দিয়ে নজরদারি বা যে কোনো জাহাজে উঠে যাওয়ার মতো ঘটানো। এর উদ্দেশ্য হবে সরাসরি অবরোধ না করেও বীমা ও পরিবহন ব্যয় বাড়ানো। ইরান এর আগে অনেকবার হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিলেও শেষমেশ কখনোই তা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। তবে দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটবে, যা পরিষ্কার করতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীকে জড়াতে হতে পারে এবং ইরানের তেল রপ্তানিও সীমিত হয়ে পড়বে। কয়েক দিন ধরেই তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন বৃদ্ধি শুরুর পর থেকেই এর প্রভাব পড়তে শুরু করে এবং ইতিমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে, যা ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিরই প্রতিফলন।
সম্পাদক : সন্তোষ শর্মা
প্রকাশক: মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু