শোনো ইতিহাসের ডাক— রক্তমাখা এক প্রভাতের কথা। রাজপথ কাঁপে, কাঁপে আকাশ, কাঁপে অন্যায়ের প্রাচীর।
‘বাংলা আমার অধিকার!’ গর্জে ওঠে তরুণ কণ্ঠ, বুক চিরে ঝরে রক্ত— তবু থামে না উচ্চারণ।
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সংসদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রথম যে আগুন জ্বালালেন, সে আগুন নিভেনি— সে আগুন আজও জ্বলছে প্রতিটি হৃদয়ে।
একুশ মানে মাথা নত নয়, একুশ মানে প্রতিবাদের মুষ্টিবদ্ধ হাত। সালাম! বরকত! রফিক! জব্বার! তোমাদের নাম উচ্চারিত হলেই কম্পিত হয় অন্যায়ের সিংহাসন।
দয়াল দত্তের কবিতা— ভালোবাসায় কবিতা
বাহান্ন থেকে একাত্তর— একটি ভাষা, একটি জাতি, একটি অগ্নিসংগ্রাম! শৃঙ্খল ছিঁড়ে জন্ম নেয় স্বাধীনতা, রক্তের বিনিময়ে লেখা হয় পতাকার রঙ।
ষড়যন্ত্র ছিল, আছে, থাকবে— দেশ ভাঙার, মন ভাঙার, চেতনাকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা। কিন্তু বাঙালির কণ্ঠরোধ করা যায় না!
ইউনেস্কো যখন স্বীকৃতি দেয় বিশ্বমাঝে— মাতৃভাষার অধিকার মানবতার অধিকার, তখন একুশ হয়ে ওঠে বিশ্বমানবের অঙ্গীকার।
প্রগতির পথ রুদ্ধ হয় না, চক্রান্তের দেয়াল টেকে না। যুগান্তরে জ্বলে ওঠে একুশের শিখা— স্বাধীন চেতনার দ্বীপশিখা।
বল একসাথে— বাংলা আমার অহংকার! বাংলা আমার অস্তিত্ব! বাংলা আমার মুক্তির উচ্চারণ!
একুশ মানে— চির অমর অগ্নিশপথ।
