বারবার বাচ্চা নষ্ট: কারণ প্রতিকার ও চিকিৎসা
বারবার বাচ্চা নষ্ট হওয়া: চব্বিশ সপ্তাহের আগে যদি দুই বা ততোধিকবার বাচ্চা নষ্ট হয়, তখন সেই অবস্থাকে বাচ্চা নষ্ট হওয়া ‘রিকারেন্ট প্রেগন্যান্সি লস’ বলা হয়। কারণ: যদিও ৫০ ভাগ ক্ষেত্রে বারবার বাচ্চা নষ্ট হওয়ার কোনো কারণ জানা যায় না; তবে ৫০ ভাগ ক্ষেত্রে উপযুক্ত কারণ খুঁজে পাওয়া যায়। ১. প্রথম ৩ মাসের মধ্যে কারণগুলো হচ্ছে— ক) জিনগত ত্রুটি: মা-বাবা অথবা ভ্রূণের জিনগত ত্রুটি থাকলে। খ) অ্যান্টিফসফোলিপিড অ্যান্টিবডি সিনড্রোম যেখানে—ফুলের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। গ) হরমোনজনিত সমস্যা—পলিসিস্টিক ওভারি, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা ইত্যাদি। ২. ৩ থেকে ৬ মাস গর্ভকালীন কারণগুলো— ক) জরায়ুর জন্মগত ত্রুটি—জরায়ু দুই ভাগ যেমন সেপটেট ইউটেরাস বা বাইকর্নুয়েট ইউটেরাস খ) জরায়ু মুখের দুর্বলতা গ) অ্যান্টিফসফোলিপিড অ্যান্টিবডি সিনড্রোম ঘ) হরমোনাল সমস্যা—পলিসিস্টিক ওভারি, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা। ঙ) থ্রোম্বোফিলিয়া। সাধারণ কারণ: মায়ের বয়স ৩৫ বছরের বেশি হওয়া, বাবার বয়স ৪০ বছরের বেশি হওয়া, ধূমপান, এনভায়রনমেন্টাল টক্সিন ইত্যাদি। এ ক্ষেত্রে টিভিএস করে দেখতে হবে জরায়ুর কোনো জন্মগত ত্রুটি আছে কি না। অনিয়মিত মাসিকের ক্ষেত্রে হরমোনাল প্রোফাইল করা যেতে পারে। খালি পেটে এবং গ্লুকোজ খাওয়ার দুই ঘণ্টা পরে ডায়াবেটিস পরীক্ষা, অ্যান্টিফসফোলিপিড অ্যান্টিবডি আছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করে দেখতে হবে। ক্যারিওটাইপিং-জিনগত ত্রুটির জন্য—গর্ভকালীন অবস্থায় জরায়ুর মুখের ডায়োমিটার ইউএসজি করে দেখা হয় জরায়ুর মুখের দুর্বলতা আছে কি না। যদি সারভিক্যাল ডায়ামিটার ২.৫ সেন্টিমিটারের মতো হয়, তাহলে আমরা সারভিক্যাল ইনকম্পিটেন্সি বলে থাকি। চিকিৎসা: রোগীকে কাউন্সেলিং করা এবং মানসিক সাপোর্ট দেওয়া। গর্ভধারণের ৩ মাস আগে ফলিক অ্যাসিড এবং ইকোস্প্রিন জাতীয় ওষুধ সেবন। গর্ভধারণের পরে—প্রজেস্টেরন সাপ্লিমেন্টেশন, গর্ভপাতের সঠিক কারণ অনুসন্ধান এবং কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান। জরায়ুর জন্মগত ত্রুটি সংশোধন, জরায়ুর মুখের দুর্বলতা থাকলে সিরোদকার স্টিচ প্রদান। থাইরয়েড, ডায়াবেটিস এবং পলিসিস্টিক ওভারি চিকিৎসা দেওয়া। কোনো ফসফোলিপিড অ্যান্টিবডি সিনড্রোম থাকলে গর্ভকালীন ইকোস্প্রিন এবং হেপারিন জাতীয় ওষুধ সেবন করা। জিনগত ত্রুটির ক্ষেত্রে—আইভিএফ করে ভ্রূণ প্রতিস্থাপন, রোগীর টেন্ডার লাভিং কেয়ার এবং মানসিক সাপোর্টের মাধ্যমে ২ থেকে ৩ বার বাচ্চা নষ্ট হওয়ার পরও ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে সফল গর্ভধারণ এবং সুস্থ বাচ্চা জন্ম দেওয়া সম্ভব।
সম্পাদক : সন্তোষ শর্মা
প্রকাশক: মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু