বিএনপির ঘাঁটিতে এবার নতুন নেতৃত্বে আস্থা
: শেষ পৃষ্ঠার পর ৮৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. ছাইফ উল্যাহ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৯৮ হাজার ৩৬ ভোট। ব্যক্তিগত পরিচিতি, দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের মামলা পরিচালনা, শক্তিশালী সাংগঠনিক অবস্থান ও হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে তার অবস্থানকে এ জয়ের কারণ হিসেবে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ১১ দলীয় জোট থেকে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বের হয়ে যাওয়ায় এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাফেজ জহিরুল ইসলাম এককভাবে হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচন করে প্রায় ১২ হাজার ভোট পান, যা ধানের শীষের বিজয়ে সহায়ক হয়। নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা, সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও সাবেক পাঁচবারের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক ধানের শীষ প্রতীকে ৮৩ হাজার ৯৮২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের এনসিপি প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া শাপলা কলি প্রতীকে পান ৬৭ হাজার ৫৪ ভোট। আগের অভিজ্ঞতা, সংগঠনের দৃঢ় অবস্থান এবং আওয়ামী সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকার হওয়ায় মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারায় তিনি জয় পান বলে স্থানীয়রা মনে করেন। নোয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪১ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাওলানা বোরহান উদ্দিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪১ ভোট। দলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা, তার ব্যক্তিগত পরিচিতি ও অভিজ্ঞতা এ জয়ে ভূমিকা রাখে। নোয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. শাহজাহান ২ লাখ ১৯ হাজার ১৮২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ইসহাক খন্দকার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৯ ভোট। চারবার এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা, ক্লিন ইমেজ ও শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি তার জয়ের পেছনে কাজ করেছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন। নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১ লাখ ২০ হাজার ৪৫৩ ভোট। প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নির্বাচনী এলাকা হওয়া, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দলীয় ঐক্য তার জয়ে ভূমিকা রাখে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা মওদুদ বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া থেকে সরে দাঁড়িয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নোয়াখালী-৬ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এনসিপি প্রার্থী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ শাপলা কলি প্রতীকে ৯০ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাহবুবের রহমান শামীম ধানের শীষ প্রতীকে পান ৬৩ হাজার ৩৭২ ভোট। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া সমন্বয়কদের একজন হিসেবে তার পরিচিতি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হাতিয়ার উন্নয়নে ভূমিকা এবং নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা তার জয়ে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম এবং সাবেক উপজেলা সাধারণ সম্পাদক তানভীর উদ্দিন রাজিব বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকাও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
সম্পাদক : সন্তোষ শর্মা
প্রকাশক: মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু