শিরোনাম
Ad Image

তেল-গ্যাস সরবরাহ স্থগিত হরমুজ প্রণালি বন্ধ, ট্যাঙ্কারে হামলা কী প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে

তেল-গ্যাস সরবরাহ স্থগিত হরমুজ প্রণালি বন্ধ, ট্যাঙ্কারে হামলা কী প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে

তেল-গ্যাস সরবরাহ স্থগিত

হরমুজ প্রণালি বন্ধ, ট্যাঙ্কারে হামলা কী প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে

বিশ্ববেলা ডেস্ক 8 ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ইরানের আধাসরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি শনিবার রাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট দিয়ে তেল-গ্যাস সরবরাহ স্থগিত হয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে অর্থনীতি ও বিশ্ব জ্বালানি ব্যবস্থায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ মিশনের এক কর্মকর্তা শনিবার জানিয়েছেন, জাহাজগুলো ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কাছ থেকে ভিএইচএফ ট্রান্সমিশন পাচ্ছে যে, ‘কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না’। এ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি রুট, যা সৌদি আরব, ইরান, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বৃহত্তম উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর বেশ কয়েকটি ট্যাঙ্কার মালিক, তেল প্রধান এবং ট্রেডিং হাউস হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ স্থগিত করেছে। আর তেহরান জানিয়েছে, তারা নৌচলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। বেশ কিছু বাণিজ্যিক সূত্রও এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। একটি প্রধান ট্রেডিং ডেস্কের এক শীর্ষ নির্বাহী বলেন, আমাদের জাহাজগুলো আগামী কয়েক দিন সেখানে থাকবে। ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার থেকে প্রাপ্ত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরার মতো বড় বন্দরের পাশে জাহাজগুলো রাখা হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করছে না। গ্রিসের জাহাজ পরিবহন মন্ত্রণালয় শনিবার জাহাজগুলোকে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে গতকাল ওমানে একটি তেল ট্যাঙ্কারে হামলায় চারজন আহত হয়েছে। মাসান্দাম উপকূল থেকে প্রায় পাঁচ নটিক্যাল মাইল দূরে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সমুদ্র নিরাপত্তা কেন্দ্র। স্কাইলাইট নামে এ জাহাটিতে হামলায় চারজন আহত হয় এবং বাকি ২০ জন ক্রু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় জাহাজটিতে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট দ্বীপরাষ্ট্র পালাউয়ের পতাকা উড়ছিল। হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের একটি বড় অংশের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান নিজেই প্রতিদিন প্রায় ৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন (৩৩ লাখ) ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ৩ শতাংশ এবং ওপেক রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে চতুর্থ শীর্ষ উৎপাদনকারী। এর সঙ্গে দেশটির কৌশলগত অবস্থানের কারণে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে এর প্রভাব আরও অনেক বেশি। সৌদি আরব ও ইরাকসহ গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারীদের কাছ থেকে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ দিয়েই নৌপথে পরিবাহিত হয়। ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই পথ দিয়ে সরবরাহ ১ শতাংশ কমলে তেলের দাম সাধারণত প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ভারতের ইকুইরাস সিকিউরিটিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান যদি প্রতিশোধ হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ বন্ধ করে দেয়, তাহলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ থেকে ১১০ ডলারে উঠে যেতে পারে।

সম্পাদক : সন্তোষ শর্মা
প্রকাশক: মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু

আপনার মতামত লিখুন
Ad Image
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর