বিশ্ববেলা ডেস্ক 8 ইরানের দ্রুত পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষার মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক বিশ্লেষক। গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সাবেক কর্নেল সেড্রিক লেইটন। মার্কিন সামরিক বিশ্লেষক সিএনএনের বেকি অ্যান্ডারসনকে বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের জবাবে দ্রুত পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, তা এখন কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়বে। একই সঙ্গে এটি ইরানের সামরিক সক্ষমতাও প্রদর্শন করছে। সেড্রিক লেইটন সিএনএনের বলেন, ‘কয়েক মাস ও বছর ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, ইরানের এই পাল্টা হামলার মাধ্যমে সেটিই এখন আসল পরীক্ষায় পড়েছে।’ লেইটন বলেন, গোয়েন্দা তথ্য থেকে ইরানের পাল্টা হামলার সক্ষমতা সম্পর্কে কিছু ধারণা ছিল। তবে ইরানের এত দ্রুত প্রতিক্রিয়া কিছুটা বিস্ময়কর এবং এটি ইঙ্গিত দেয় যে, তারা এমন তীব্র হামলার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘ইরানের কাছে প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজারটি ক্ষেপণাস্ত্র আছে, যা তারা নিক্ষেপ করতে সক্ষম। তবে সমস্যা হলো, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী তাদের আগের মতো পর্যাপ্ত লঞ্চার (ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যন্ত্র) নেই।’ বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গত বছরের জুনে হামলার আগে যে সংখ্যক লঞ্চার ছিল, এখন তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রয়েছে। মার্কিন এ বিশ্লেষক বলেন, ‘যদি এই তথ্য সঠিক হয়, তাহলে ধারণা করা যেত ইরানের প্রতিক্রিয়া কিছুটা দেরিতে আসবে। কিন্তু তারা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দ্রুত এবং বড় মাত্রায় জবাব দিতে পেরেছে।’ মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকের ভাষায়, ‘আমি ভেবেছিলাম তারা জবাব দেবে; কিন্তু এত বড় মাত্রায় এবং এত দ্রুত নয়। স্পষ্টতই তারা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল।’
সম্পাদক : সন্তোষ শর্মা
প্রকাশক: মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু