শিরোনাম
কৌশিক আজাদ প্রণয়ের প্রতীক্ষা
কৌশিক আজাদ প্রণয়ের প্রতীক্ষা

আমাদের দেখা হয় না অনেকদিন। সময়ের চলন্তিকায় ক্ষণিক দেখার যে প্রহর, তাতেও ভর করে সান্ধ্য ব্যস্ততার দ্যোতনায় বিদায়-বাক্য। আমাদের কথা হয় না অনেকদিন। কাজের প্রয়োজনে এক-দু’বার ভুল করে কথা হলেও তাতে জুড়ে থাকে যদি-কিন্তু, যেহেতু-সেহেতু, এভাবে-ওভাবের এক যান্ত্রিক মিশ্রণ।

আমি দীর্ঘ সময় প্রতীক্ষায় থাকি। অঘোর প্রতীক্ষা বিষাদের ঘাম ঝরায়, আমাকে ক্লান্ত করে।

কৌশিক আজাদ প্রণয়ের প্রতীক্ষা

শহিদুল ইসলাম নিরবের গুচ্ছ গুচ্ছ কবিতা...

আমার দহনগুলো দেখা যায় না, বোঝা যায় না। সারাক্ষণ শুধুই তোমায় ভেবে থাকা। সময়-অসময়ে রিংটোন বাজলে তুমি ভেবে দ্রুত ছুটে যাওয়ার ব্যর্থ উৎকণ্ঠা! ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ—মিউট কনভার্সেশনেও বারবার ঢুকে অস্থিরতার উদগীরণ! তুমি যদি বার্তা দাও—তোমার!

না, আজকাল আর তেমন হয় না। সময় তোমায় অনেক বেশি শক্ত হতে শিখিয়েছে। তোমার প্রাত্যহিক আচরণ আর ভাবনার ঢঙে দারুণ প্র‍্যাকটিক্যালিটি। তাছাড়া তোমার দুর্দান্ত ছকে বাঁধা সময়ে শুধুই মনস্তাত্ত্বিক উন্মেষে ভাগ বসানোর দুঃসাহস করবার ইচ্ছে আমি প্রশমিতই রাখি।

একরাশ অভিমান জমে। কতজনের কত কে আছে, আমার শুধু তুমিই ছিলে—প্রাণপণ। তুমি আজও আছো, শুধু আমার নও আর। বাক্যগুলো পড়লে কুঞ্চিত চোখ আর ভ্রুকুটি তোমার বিরক্তি আনবে। সত্যি বলতে, ‘আমার’ করে নিতে দস্তখত কিংবা শরীরী উষ্ণতা নিষ্প্রয়োজন।

আমি কেবল তুমিহীন বিষাদের অঙ্গারে পুড়ে-পুড়ে দগ্ধ হই। কালে ভদ্রে খোঁজ নাও তুমি। তোমার সপ্তায়-মাসের সময়ের অববাহিকা আমার কাছে মিনিট-সেকেন্ডের প্রতীক্ষা। এই বিষাদ আমি প্রকাশ করতে পারব না, শত শব্দ লিখেও।

২. অবস্থান

তবু তো আমার একটুখানি উপস্থিতি তোমার উপলব্ধিতে নিঃস্বার বিকেলের উদ্ভ্রান্ত শূন্যতায় অথবা গাঢ় এক অনিচ্ছার তীক্ষ্ম ভ্রুকুটিতে তোমার একান্ত গল্পগুলোতে জুড়ে আছি একাকার।

গা এলিয়ে চায়ের কাপে দোল চেয়ারে বসা বারান্দায় তোমার ভাবনার অনুষঙ্গে আমার জায়গা নেই জানি কিংবা তুমিময় প্রখর তৃষ্ণায় এক আঁজলা জলের মত তোমাকে চাওয়ার অধিকারগুলো অনেক বড় মিথ।

অধিকাররা ডানা মেললে বরং তীরষ্কারের তীব্র হলাহলে নীলকন্ঠ হই! কাঙ্খিত দেবত্ব আমার মাঝে লেশমাত্র নেই যার তরে সঁপে দিতে প্রস্তুত তোমার সকল আকুতি। বরং সময়ের প্রদাহে অঙ্গার হয় লহরিত হাওয়ার ফুলেল ভাবনারা।

আমার এতে দুঃখ নেই একদম। তবু তো জুড়ে আছি তোমার অলক্ষ্যে পদপিষ্ট হওয়া ঘাসের মত, তৃষিত হাতে ছুঁয়ে যাওয়া অর্ঘ্য ফুল হইনি আমি এতে তবু আক্ষেপ নেই। ধূসর আব্রু তবু সাক্ষ্য দেয় তোমার স্পর্শের।