শিরোনাম
চট্টগ্রাম বন্দরের ১৫ কর্মচারীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
চট্টগ্রাম বন্দরের ১৫ কর্মচারীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান আন্দোলনের আড়ালে নৈরাজ্য সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ কর্মচারীকে শাস্তিমূলক বদলি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে এসব কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান থাকায় তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি ও সম্পদের হিসাব তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হাসিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২-এর ৫০ ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে অভিযুক্ত ১৫ কর্মচারীকে বদলিপূর্বক মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বদলি কর্মচারীদের মধ্যে অডিট সহকারী, ইঞ্জিন ড্রাইভার, স্টেনো টাইপিস্ট, উচ্চ বহিঃসহকারী, ইসিএম ড্রাইভার ও মেসনসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পদের কর্মচারী রয়েছেন।

আদেশে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযুক্ত কর্মচারীরা আন্দোলনের নামে বন্দর এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তরা যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শুধু বদলিই নয়, অভিযুক্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অফিস আদেশে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) এসব কর্মচারীর নামে থাকা সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের আদেশ অনুযায়ী, বদলিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন- এনসিটি ইস্যুতে আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির (অডিট সহকারী), মো. ইব্রাহিম খোকন (ইঞ্জিন ড্রাইভার), মো. জহিরুল ইসলাম (স্টেনো টাইপিস্ট), মানিক মিস্ত্রি (ইসিএম ড্রাইভার) ও মো. শামসু মিয়া (মেসন)।

এ বিষয়ে জারি করা আদেশের অনুলিপি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

অচলাবস্থা কাটিয়ে আবার অপারেশনে ফিরল চট্টগ্রাম বন্দর
অচলাবস্থা কাটিয়ে আবার অপারেশনে ফিরল চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে। জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানো শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য স্থানান্তর পুরোদমে চলছে। কনটেইনার ডিপো থেকে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার এনে জাহাজে তোলার কাজও শুরু হয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটা থেকে স্বাভাবিক হয় বন্দরের কার্যক্রম।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়াসহ চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ রোববার সকাল ৮টা থেকে ধর্মঘট শুরু করে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে কোনো চুক্তি হচ্ছে না—সরকারের এমন ঘোষণার পর রোববার দিবাগত রাতে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

ধর্মঘট চলাকালে বন্দরের তিনটি প্রধান টার্মিনাল—জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আজ সকাল থেকে এসব টার্মিনালে পুনরায় জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ শুরু হয়েছে।

অচলাবস্থা কাটিয়ে আবার অপারেশনে ফিরল চট্টগ্রাম বন্দর

জনসভা থেকে ফেরার পথে জামায়াত কর্মী নিহত

জেটি ও টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বার্থ অপারেটরস, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, ‘অচলাবস্থা কেটে গেছে। বন্দরে স্বাভাবিকভাবে কাজ শুরু হয়েছে।’

ধর্মঘটের সময় প্রথমবারের মতো বহির্নোঙরে পণ্য খালাস পুরোপুরি বন্ধ ছিল। বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ সরওয়ার হোসেন বলেন, ‘ধর্মঘটের কারণে বহির্নোঙরে ৬৫টি বড় জাহাজে কাজ বন্ধ ছিল। কর্মসূচি স্থগিত হওয়ার পরই বড় জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য স্থানান্তর শুরু হয়েছে।’

রোববার রাত ১০টায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে সংগঠনের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকনের সই করা একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তবে আড়াই ঘণ্টা পর নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রোজার পণ্য খালাসের স্বার্থে ধর্মঘট সোমবার সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার, বদলি ও সাময়িক বরখাস্তসহ পাঁচটি সমস্যার সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি নতুন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে সংগঠনটি প্রথমে তিন দিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করে। পরে গত মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মসূচি শুরু হয়। নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ তুলে রোববার থেকে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল।

দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন চাইলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন
দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন চাইলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নগরবাসীকে সেবা দেওয়া দিন দিন আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নগরভবনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় মিশনের দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক সুজান জিন্ডেল ও সহকারী মো. মাসুক হায়দার উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আজিজ আহমদও উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ২০০১ সালের পর দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। ফলে জনগণ তাদের প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এতে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পথে রয়েছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী অর্থনীতি পুনর্গঠন করেছিলেন এবং বেগম খালেদা জিয়া দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে ভূমিকা রেখেছিলেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বেও বাংলাদেশ উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

স্থানীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গে মেয়র জানান, বর্তমানে সারাদেশে তিনিই একমাত্র নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২১ সালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের মাধ্যমে তাকে পরাজিত করা হয়েছিল। পরে আদালতের রায়ে তিনি মেয়রের দায়িত্ব পান। অন্য সিটি করপোরেশনগুলোতে বর্তমানে প্রশাসকের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত ও সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রামে তার সঙ্গে ৪১ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ১৪ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কেউ দায়িত্বে নেই। ফলে এত বড় শহরে একা দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, একই দিনে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটতে হচ্ছে। কাউন্সিলর না থাকায় সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাই দ্রুত চট্টগ্রামসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হওয়া জরুরি।

অন্যদিকে প্রতিনিধি দলটি জানায়, বাংলাদেশের জাতীয় আইনি কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে সংসদীয় নির্বাচন মূল্যায়ন করা হয়েছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তারা প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে একটি বিস্তারিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। এতে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সুপারিশ থাকবে এবং মিশনের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়।

বন্দরে কনটেইনার জট, রমজানে পণ্য সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা
বন্দরে কনটেইনার জট, রমজানে পণ্য সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা

আসন্ন পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিতে স্বস্তির চিত্র দেখা গেলেও সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতায় বাজারে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। আমদানি বেড়ে ছোলাসহ কয়েকটি পণ্যের দাম কমলেও চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ জট, ধীরগতির খালাস ও পরিবহন সংকট বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর তথ্য বলছে, গত ১ নভেম্বর থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে ২ লাখ ২ হাজার টন ছোলা আমদানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। আমদানিকৃত ছোলার প্রায় ৯৮ শতাংশই এসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে।

বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাবও পড়েছে। গত বছর যেখানে ছোলার দাম কেজিপ্রতি ৯২ থেকে ১০৫ টাকার মধ্যে ছিল, বর্তমানে পাইকারি বাজারে তা ৭৫ থেকে ৮২ টাকায় স্থিতিশীল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় কোনো অস্বাভাবিকতা না ঘটলে রমজানজুড়ে ছোলার দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

শুধু ছোলা নয়, ভোজ্যতেল, চিনি ও ডালের আমদানিতেও প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ডিসেম্বর থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ ৭৪ হাজার টন সয়াবিন ও পাম তেল আমদানি হয়েছে। চিনির আমদানি বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ, যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭৩ হাজার টনে। মসুর ডাল আমদানি বেড়েছে ৪৩ শতাংশ এবং মটর ডাল ৮১ শতাংশ। খেজুরের আমদানি কিছুটা কমলেও হিমাগারে আগের বছরের মজুত থাকায় বড় সংকটের আশঙ্কা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।

বন্দরে কনটেইনার জট, রমজানে পণ্য সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা

নিবন্ধন ছাড়া স্কুল পরিচালনা করা যাবে না : শিক্ষামন্ত্রী

তবে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় ১১০টি পণ্যবাহী জাহাজ নোঙর করে আছে। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক জাহাজে রয়েছে রমজানের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। সময়মতো খালাস না হওয়ায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির ঝুঁকি বাড়ছে।

নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪৮ ঘণ্টা কার্যত স্থবির ছিল বন্দরের কার্যক্রম। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে দিনে প্রায় ৫ হাজার কন্টেইনার খালাস হয়, কর্মবিরতির সময় তা নেমে আসে গড়ে ১ হাজার ৪৭৬টিতে। বর্তমানে জেটিতে কন্টেইনারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৭২৫টি-যা স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি।

পরিবহন শ্রমিক সংকট ও পূর্ববর্তী কর্মবিরতির প্রভাব পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে না পারায় পণ্য সরবরাহে ধীরগতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে। বিপুল আমদানি সত্ত্বেও সরবরাহ ঘাটতির কারণে কয়েক দিনে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩৬ থেকে ৪২ টাকায় উঠেছে। রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা পর্যন্ত। আদা ও মসুর ডালের দামেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কিছু আমদানিকারক পণ্য বন্দরে বা জাহাজে আটকে রাখায় সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাতুনগঞ্জের এক ব্যবসায়ী বলেন, চাহিদা ও আমদানির মধ্যে ভালো সামঞ্জস্য রয়েছে। তবে দ্রুত জট না কাটলে এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি ভোক্তাদের ওপর পড়বে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রমজানের পণ্য খালাসে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে জট কমিয়ে পণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছানো গেলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

পরিসংখ্যান বলছে, পণ্যের ঘাটতির বাস্তব কারণ নেই। তবে বন্দর থেকে দ্রুত খালাস ও কার্যকর বিতরণ নিশ্চিত করা না গেলে সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতাই রমজানের বাজারে অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে। সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ-বন্দর সচল রাখা, বাজার তদারকি জোরদার করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে নির্বিঘ্ন করা।

বিএনপি-জামায়াত তুমুল সংঘর্ষ
বিএনপি-জামায়াত তুমুল সংঘর্ষ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বড়উঠান ফাজিল খাঁর হাট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বিএনপির দাবি, সংঘর্ষে উপজেলা যুবদলের সদস্য শাহেদুল আলম টিটু, বড়উঠান ইউনিয়ন কৃষকদলের সদস্য মঞ্জুর আলম, ছাত্রদল নেতা মো. ইমনসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জামায়াত নেতা আলমগীর, এনাম ও মামুনসহ ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য এস এম ফারুক হোসেন অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী দৌলতপুর জামে মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে জামায়াতের যুব সংগঠনের সেক্রেটারির নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা করা হয়।

অন্যদিকে কর্ণফুলী জামায়াতে ইসলামীর আমির মনির আবছার চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে স্থানীয় বিএনপি ও মাদক ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য ফাজিল খাঁর হাট বাজারে গেলে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা টিটুর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় এবং কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়।

কর্ণফুলী থানার ওসি মো. শাহীনুর আলম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।