শিরোনাম

১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে শ্যামনগরের জামায়াত নেতা কারাগারে

১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে শ্যামনগরের জামায়াত নেতা কারাগারে

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তাঁর সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১০ আগস্ট) সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে দুজন জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক মো. সাইদুর রহমান তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

হাজী মো. নজরুল ইসলাম বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন হাজী নজরুল ও বিশ্বজিৎ। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সোমবার তাঁরা নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

মামলার বাদী প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন। গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় মামলাটি করা হয়। মামলায় হাজী নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তাঁর ছেলে আব্দুর রহমান, বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে আর-রাদ করপোরেশন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে বিভিন্ন সময় অর্থ দাবি করা হচ্ছিল। চাঁদা না দেওয়ায় একপর্যায়ে নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এর ফলে গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া এবং প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, গত ২৩ মে প্রকল্প এলাকায় প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করা হয়। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধর করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় জাহিদের স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

বাদীপক্ষের দাবি, ঘটনার কিছু অংশ প্রকল্প এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। আহত জাহিদ হাসান ও ফেরদৌসকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাজী মো. নজরুল ইসলাম। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রকৌশলীকে মারধরের কথিত ঘটনার সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে স্থানীয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্ষার আগে বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ না হলে উপকূলীয় এলাকায় ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর