বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণ ও নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর লক্ষ্যে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ তথ্য জানিয়েছেন। বোয়িংও পৃথক ঘোষণায় অর্ডারটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে।
বোয়িংয়ের ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন অর্ডারে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে। এর আগে চলতি বছর বিমান ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল। নতুন অর্ডারসহ বোয়িংয়ের কাছে বিমানের মোট অর্ডারের সংখ্যা দাঁড়াল ২৫টি।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত সম্প্রসারণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনার প্রয়োজন বিবেচনা করেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ নিজেদের চাহিদার ভিত্তিতেই উড়োজাহাজ কিনছে বলেও জানান তিনি।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উইলিয়াম কিমিট এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস পল কাপুরসহ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাহদী আমিন বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিও তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, সফরে স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে।
তিনি বলেন, গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ছে।
এ ছাড়া ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথাও জানান তিনি। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অভিবাসন ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। সংঘাতের কারণে জ্বালানি, বাণিজ্য ও প্রবাসীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন। নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য ও সৌর জ্বালানির ব্যবহার এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর আরও কর্মসূচি রয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, পরবর্তী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তব্য দেবেন।