কয়েক দিনের টানা ভ্যাপসা গরমে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজ সংলগ্ন পর্যটন এলাকা। বছরের প্রায় সব সময়ই যেখানে পর্যটকদের পদচারণা, স্পিডবোটের ছুটে চলা আর নদীর তীরে নানা আয়োজন ঘিরে থাকে কোলাহল, সেখানে এখন বিরাজ করছে নীরবতা। পর্যটক না থাকায় স্পিডবোট, ফুচকার দোকান, বেলুন বিক্রেতা, ফটোগ্রাফার ও ভ্যানচালকদের আয়-রোজগারও কমে গেছে।
তিস্তা ব্যারেজের ভাটিতে নদীর স্রোত দেখতে এবং বিনোদনের জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই পর্যটকেরা আসেন। কয়েক ডজন স্পিডবোটে চড়ে নদীতে ঘোরাঘুরি করেন তারা। নদীর তীরে বসে ফুচকা, চটপটি ও নানা খাবারের দোকানেও ভিড় থাকে। তবে সাম্প্রতিক অতিরিক্ত গরমে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে।
নদীর তীরে সারি সারি স্পিডবোট পড়ে থাকলেও নেই যাত্রী। ফুচকার দোকানগুলোতেও নেই ক্রেতার আনাগোনা। কয়েক দিন ধরে অলস সময় কাটাচ্ছেন স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়ীরা।
ফুচকা ব্যবসায়ী মনোয়ার আলী (৪৫) বলেন, ‘তিন সন্তানসহ পাঁচ সদস্যের পরিবার। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে অতিরিক্ত গরম পড়ায় কোনো পর্যটকের দেখা মিলছে না। আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার করে কোনোরকমে সংসার চালাচ্ছি।’
পর্যটকের অপেক্ষায় প্রতিদিন নদীর তীরে ক্যামেরা নিয়ে বসে থাকছেন স্থানীয় তরুণ ফটোগ্রাফাররাও। প্রায় ৬-৭ জন তরুণ ডিএসএলআর ক্যামেরা নিয়ে অপেক্ষা করলেও পর্যটক না আসায় তাদেরও আয় বন্ধ।
.jpeg)
২৫ বছর বয়সী সোহেল আহমেদ বলেন, ‘বাড়ি কাছেই। প্রতিদিন ক্যামেরা নিয়ে আসি। কিন্তু কয়েক দিনে কোনো পর্যটক ছবি তুলতে চাননি। তারপরও আশা নিয়ে প্রতিদিন ক্যামেরা নিয়ে আসছি।’ তিনি জানান, প্রায় ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি রিকন্ডিশন্ড ক্যামেরা কিনেছেন।
বেলুন বিক্রেতা ডালিয়া গ্রামের কিশোর মুরশেদুল (১২) জানায়, অতিরিক্ত গরমের কারণে পর্যটক না থাকায় সে মাত্র ১৫টি বেলুন বিক্রি করতে পেরেছে।
একই অবস্থা ভ্যানচালকদেরও। ডালিয়া-দেওয়ানী সড়কের ভ্যানচালক রহিম উদ্দিন (৫৫) বলেন, পর্যটক কমে যাওয়ায় যাত্রীও নেই। ফলে আয়-রোজগার অনেকটাই কমে গেছে।
সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, বুধবার সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে তাপমাত্রার তুলনায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি বেশি। বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ এবং মেঘলা আকাশের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, তিস্তা ব্যারেজসংলগ্ন এলাকায় নিয়মিতই ভ্রমণপিপাসু মানুষের সমাগম হয়। অনেকে লাইফ জ্যাকেট পরে নদীতে নামেন, আবার কেউ স্পিডবোটে ঘোরেন। নদী ও নদীর তীরে স্থানীয় বেকার যুবকেরা এসব বিনোদনের আয়োজন করেন। তবে নিরাপত্তা ও অন্যান্য কারণে অনেক সময় এসব আয়োজন উচ্ছেদ করা হয়।
অতিরিক্ত গরমে পর্যটকের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় শুধু পর্যটনকেন্দ্রের কোলাহলই কমেনি, এর সঙ্গে জড়িত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মানুষের আয়ও কমে গেছে। ফলে পর্যটননির্ভর এসব মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও হতাশা।