শিরোনাম
মীরবাগ কলেজের শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ

মাউশির কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

মাউশির কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মীরবাগ ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ আলী বাবুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকা, কারাগারে থাকা অবস্থায় সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন, হাজিরা খাতায় অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), রংপুর অঞ্চল।

নোটিশ দেওয়ার পর মাউশির রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক (কলেজ) কামরুজ্জামান পাইকারকে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মাউশি, রংপুর অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর গোলাম মাজেদ স্বাক্ষরিত নোটিশে মোহাম্মদ আলী বাবুকে নোটিশ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মাউশির নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা লঙ্ঘন করে গভর্নিং বডির অনুমোদন, চার বছরের চুক্তিপত্র এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ‘শিক্ষা ছুটি’র নামে কলেজে অনুপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আলী বাবু। এ ছাড়া দুর্নীতি ও ফৌজদারি মামলায় কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় সরকারি এমপিওভুক্ত পূর্ণ বেতন-ভাতা উত্তোলন ও আত্মসাতের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় ছদ্মবেশে ও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে স্বাক্ষর করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালে তিনি ৪৪ দিন এবং ২০২৫ সালে ৯ দিন সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিলেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দীর্ঘ অনুপস্থিতি ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

এসব কর্মকাণ্ডকে শিক্ষা বিধিমালা ও সরকারি চাকরি আইনের পরিপন্থী গুরুতর অসদাচরণ, জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়েছে, কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না, তা সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

এর আগে কারাগারে থাকা অবস্থায় ‘শিক্ষা ছুটি’র নামে বেতন উত্তোলনসহ বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ আগস্ট মাউশি, রংপুর অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর গোলাম মাজেদ ও উপপরিচালক (কলেজ) কামরুজ্জামান পাইকার মীরবাগ ডিগ্রি কলেজ সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা কলেজের বিভিন্ন দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনা করেন।

পরিদর্শনের পর ৩০ আগস্ট মাউশিতে পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনে মোহাম্মদ আলী বাবুর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ ও বিভিন্ন মতামত তুলে ধরা হয়। এরপর আগস্ট মাস থেকে তাঁর বেতন বন্ধ করা হয়েছে বলে মাউশি সূত্রে জানা গেছে।

মাউশি, রংপুর অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর গোলাম মাজেদ বলেন, মোহাম্মদ আলী বাবুর বিরুদ্ধে বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন অনুপস্থিতি, কারাবন্দী থাকা অবস্থায় সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন এবং হাজিরা খাতায় ভুয়া স্বাক্ষরসহ গুরুতর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মোহাম্মদ আলী বাবুর বিরুদ্ধে হজে পাঠানোর কথা বলে এবং চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।

২০২৪ সালে হজে পাঠানোর নামে ৭৫ জন হজযাত্রীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ওই বছরের ২০ মে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। এর আগে হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে দিয়া ইন্টারন্যাশনাল নামের হজ এজেন্সির পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আলী বাবুসহ তিনজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জননিরাপত্তা বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

২০২৪ সালের শেষ দিকে নীলফামারী থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোহাম্মদ আলী বাবুকে গ্রেপ্তার করে। পরে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। সর্বশেষ গত ১৫ মে রাতে রংপুর মহানগর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ১৬ মে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় দুই মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

অভিযোগ রয়েছে, কারাগারে থাকা অবস্থাতেও কলেজের এমপিও শিটে তাঁর নাম রাখা হয় এবং মে, জুন ও জুলাই মাসের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। তবে উপস্থিতি রেজিস্টারে ১০ মে থেকে তাঁর নামের পাশে ‘শিক্ষা ছুটি’ উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে বুধবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পর দুপুরে মাউশির রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক (কলেজ) কামরুজ্জামান পাইকারকে মুঠোফোনে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

কামরুজ্জামান পাইকার বলেন, “কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পর মোহাম্মদ আলী বাবু আমাকে মুঠোফোনে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। একপর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ আলী বাবুর বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর