দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জনবল শক্তিশালী করা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানোর লক্ষ্যে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক রাষ্ট্রীয় সম্মানী দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত মসজিদের ইমাম মাসে ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। সম্মানীর অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) পদ্ধতিতে পাঠানোর কথা রয়েছে।
তবে মসজিদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কোথাও কোথাও মসজিদ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রভাব ও তদারকি রয়েছে। এমনকি যেসব মসজিদে নিয়মিত ইমাম, মুয়াজ্জিন কিংবা খাদেম নেই, সেগুলোকেও তালিকাভুক্ত করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসা অনেক পুরনো মসজিদ তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি করে মসজিদ নির্বাচন করার কথা রয়েছে। পৌরসভা এলাকায় ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতি ওয়ার্ডে চারটি, ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভায় তিনটি এবং ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতি ওয়ার্ডে দুটি করে মসজিদ নির্বাচন করা হবে। আর সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ছয়টি করে মসজিদ নির্বাচনের কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাষ্ট্রীয় অর্থে পরিচালিত এমন একটি কর্মসূচিতে উপকারভোগী প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ থাকলে পুরো উদ্যোগটিই বিতর্কিত হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম না থাকা মসজিদ তালিকাভুক্ত এবং দীর্ঘদিনের পুরনো ও সক্রিয় মসজিদ বাদ পড়ার অভিযোগ সত্য হলে তা সুষ্ঠু যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে আসে।
এদিকে মসজিদ নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও যাচাইযোগ্য না হলে সরকারের জনকল্যাণমূলক এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দলীয় প্রভাব বা পক্ষপাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাই মসজিদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, মাঠপর্যায়ে সরেজমিন যাচাই এবং অভিযোগের ভিত্তিতে পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর প্রভাব ছাড়াই নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে প্রকৃত উপকারভোগী মসজিদ নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।