নরসিংদীর মাধবদীর কাঠালিয়া এলাকায় কাঠালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসহাকের বিরুদ্ধে একের পর এক হামলা, মারধর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দিনে তাঁতী দল নেতাকে মারধর ও গুলি করে হত্যার হুমকির অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও শিক্ষানবীস আইনজীবীকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে ইসহাকের নেতৃত্বাধীন একটি দলের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গভীর রাতে ইসহাকের নেতৃত্বে একদল লোক বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও শিক্ষানবীস আইনজীবীকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। হামলার পর ঘরের বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।
এর আগে সোমবার সকালে কাঠালিয়া স্কুল মাঠে ইউনিয়ন তাঁতী দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাজ্জাতকে মারধর এবং তাঁর ব্যবহৃত OPPO মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারকে গুলি করে হত্যার পাশাপাশি বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে হামলা, মারধর, লুটপাট, মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশ ও অগ্নিসংযোগের হুমকির অভিযোগ সামনে আসায় কাঠালিয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কি কোনো মহল এলাকায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছে?
ভুক্তভোগীরা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নরসিংদী সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন এবং জাতীয় বীর খায়রুল কবির খোকনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে কাঠালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসহাক বলেন, তিনি এসব বিষয়ে কিছুই জানেন না।
মাধবদী থানার পরিদর্শক কামাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, দুই পক্ষই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কাঠালিয়ায় রাজনৈতিক বিরোধ আরও সংঘাতময় রূপ নিতে পারে।