শিরোনাম

নারায়ণগঞ্জে পৃথক তিন ঘটনায় দগ্ধ ৯

নারায়ণগঞ্জে পৃথক তিন ঘটনায় দগ্ধ ৯
ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জে পৃথক তিনটি ঘটনায় গ্যাসের বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে নারী-শিশুসহ নয়জন দগ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে একই পরিবারের চারজন, শহরের দেওভোগে তিনজন এবং ফতুল্লায় একটি কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডে দুই শ্রমিক দগ্ধ হন। শনিবার রাত থেকে রোববার ভোরের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরের সোনাপুর এলাকায় ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একই পরিবারের চারজন—শরীফ, তাঁর স্ত্রী রোজিনা বেগম, ছেলে রনি ও তাঁদের এক নিকটাত্মীয় দগ্ধ হন।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাজুল ইসলামের মালিকানাধীন ওই ফ্ল্যাটে লাইনের গ্যাসের পাশাপাশি সিলিন্ডার গ্যাসও ব্যবহার করা হতো। গ্যাসের চাপ বাড়াতে বৈদ্যুতিক সংযোগের সঙ্গে মোটর স্থাপন করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। রাতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে স্থানীয়রা দগ্ধদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান।

কাঁচপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত করেছেন। গ্যাসের চাপ বাড়ানোর ব্যবস্থা ও বৈদ্যুতিক সংযোগের বিষয়টি দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে রোববার ভোর ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ জিউস পুকুরপাড় এলাকায় একটি বাড়ির রান্নাঘরে গ্যাসের আগুনে তিনজন দগ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে শতবর্ষী আশা রানী ও তাঁর ৪৫ বছর বয়সী মেয়ে মিলনা রানী রয়েছেন। অপর দগ্ধ ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল)-এ নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হয়।

অন্যদিকে, শনিবার রাতে ফতুল্লায় একটি কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন লাগলে দুই শ্রমিক দগ্ধ হন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ সিকদার জানান, কাঁচপুরের ঘটনায় দগ্ধ চারজনের শরীরের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। ফতুল্লার দুই শ্রমিকের শরীরের ৫৪ থেকে ৫৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাঁদের সবার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পৃথক তিনটি ঘটনায় দগ্ধ নয়জনের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর