নীলফামারীর সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে এক মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে এক্সরে সেবা। হাসপাতালের একমাত্র সচল ডিজিটাল এক্সরে মেশিনটি গত ২৭ জুলাই থেকে বিকল হয়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। জরুরি প্রয়োজনে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক্সরে করাতে হচ্ছে তাদের।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে দুটি এক্সরে মেশিন রয়েছে। এর মধ্যে একটি এনালগ ও অন্যটি ডিজিটাল। এনালগ মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এটিকে আর সচল করা সম্ভব নয় জানিয়ে ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
এ অবস্থায় গত ২৭ জুলাই হঠাৎ করে ডিজিটাল এক্সরে মেশিনটিও বিকল হয়ে যায়। এরপর থেকেই হাসপাতালের এক্সরে পরীক্ষা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শে এক্সরে করতে আসা রোগীদের হাসপাতালের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালটি এ অঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সৈয়দপুর ছাড়াও দিনাজপুরের চিরিরবন্দর ও রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার রোগীরাও এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বহির্বিভাগে শত শত রোগী চিকিৎসাসেবা নেন।
সরেজমিনে হাসপাতালের এক্সরে কক্ষের দরজায় মেশিন বিকল থাকায় সাময়িকভাবে সেবা বন্ধ থাকার বিজ্ঞপ্তি দেখা যায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীরা বিজ্ঞপ্তি দেখে ফিরে যাচ্ছেন। এক্সরে প্রয়োজন এমন রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে।
সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চিকিৎসক তাকে এক্সরে করতে বলেছেন। কিন্তু মেশিন নষ্ট থাকায় চার দিন হাসপাতালে এসে ফিরে গেছেন। তার মতো অনেক রোগী দুর্ভোগে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।
দিনাজপুরের রানীরবন্দর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সালেহা বেগম (৫৩) বলেন, বাড়িতে গোসল করার সময় পা পিছলে পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শে এক্সরে করতে বলা হলেও মেশিন নষ্ট থাকায় বাইরে থেকে পরীক্ষা করানোর কথা বলা হয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে বাইরে থেকে এক্সরে করানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাজমুল হুদা বলেন, হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক। এনালগ মেশিনটি আর সচল করা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে। আর ডিজিটাল এক্সরে মেশিনটির ইউপিএস নষ্ট হয়ে গেছে। এর আগেও মেশিনটি কয়েকবার বিকল হয়েছিল।
তিনি বলেন, মেশিনটি মেরামতের জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের জন্য অবশ্যই দুটি এক্সরে মেশিন প্রয়োজন। একটি মেশিন নষ্ট হলে মেরামতের জন্য পাঠানোর সময় পুরো এক্সরে সেবা বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন তিনি।