ইরানের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের প্রস্তাবে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সংঘাত বন্ধে আলোচনার পথ তৈরির কথা বলা হয়েছিল। শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, তিনি ওই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।
টেনেসির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি। আমি তাদের চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছি।’ ইরান দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য চুক্তি করতে চাইছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ইরান ‘ভয়াবহভাবে হারছে’ এবং যুক্তরাষ্ট্র ‘দারুণভাবে জিতছে’।
এর আগে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরান কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানায়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধ শিথিল করলে হরমুজ প্রণালি সাত দিনের মধ্যে পুনরায় খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব ছিল।
প্রস্তাবটির অংশ হিসেবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আঞ্চলিক সংঘাতে যুদ্ধবিরতির মতো বিষয়ও চেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের খবর প্রথমে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রকাশ করে। পরে ট্রাম্প নিজেই সাংবাদিকদের কাছে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহে প্রণালিটি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে।
এর আগে এক মার্কিন কর্মকর্তা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আলোচনাকে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবে শনিবার ট্রাম্পের বক্তব্যে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ইরান তাঁর শর্তগুলো পূরণ করবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। একই প্রতিবেদনে নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবার হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছে মন্তব্য করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাতের তথ্য।