রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জে ক্যানসারে আক্রান্ত ৬৫ বছর বয়সী মাকে নেশার টাকার জন্য মারধর, চিকিৎসার জন্য রাখা টাকা চুরি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলে মো. সোহেল রানার বিরুদ্ধে। আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাতে জামতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে খিলক্ষেত থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার নথি ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোহেল রানার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তাঁর আচরণে পরিবর্তন আসে বলে অভিযোগ পরিবারের। ২০০৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে মায়ের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে নেশাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যয় করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ আগস্ট রাতে সোহেল রানা তাঁর ক্যানসার আক্রান্ত মা রোকেয়া বেগমের কাছে নিজের ভিটেমাটি বিক্রি করে নেশার টাকা দেওয়ার দাবি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় মাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এর আগে ২০ আগস্ট ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ঘরভাড়ার জন্য রাখা ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে সোহেল রানার বিরুদ্ধে। পরে ৩ সেপ্টেম্বর ঘরে ঢুকে আলমারির তালা ভেঙে মায়ের চিকিৎসার জন্য রাখা ৪২ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয় মামলায়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, ছেলেকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেও তাঁর আচরণে পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে রোকেয়া বেগমকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
অসুস্থ অবস্থায় রোকেয়া বেগম প্রথমে খিলক্ষেত থানায় যান। পরে থানা পুলিশের পরামর্শে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩৮০ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে আদালত সোহেল রানার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
খিলক্ষেত থানা পুলিশ জানায়, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি সোহেল রানাকে জামতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলায় আনা অভিযোগের বিষয়ে সোহেল রানার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।