তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই ও কারিগরি মূল্যায়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। আগামী বছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরুর আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘রিথিংকিং ওয়াটার ফিচারস: ইয়ুথ লিডারশীপ, জাস্টিস অ্যান্ড কোঅপারেশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে তিস্তা নদী ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষাকালে বন্যা ও নদীভাঙন এ অঞ্চলের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা মোকাবিলায় তিস্তা প্রকল্পকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করছে।
পানিকে আঞ্চলিক সহযোগিতার অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পানি কূটনীতি, অববাহিকাভিত্তিক সহযোগিতা, জলবায়ু সহনশীলতা, অংশগ্রহণমূলক পানি ব্যবস্থাপনা ও প্রজন্মগত ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে যুবসমাজকে এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে তাদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক বদ্বীপ ও নিম্ন অববাহিকার দেশ। ভারতের পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদীর সংযোগ রয়েছে। ফলে অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্ষায় অতিরিক্ত পানি এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট—দুই ধরনের পরিস্থিতিই মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা ও খরার মতো সমস্যাও পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে। তাই প্রচলিত পানি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পানি কূটনীতি ও আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় শুধু পানির পরিমাণ বিবেচনা করলেই হবে না; পানি প্রবাহের সময় ও পরিবর্তনশীলতা, বন্যা ব্যবস্থাপনা, পলি, নদীর প্রতিবেশ এবং নদীনির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবিকার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি আরও জানান, গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত করে যথাসময়ে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে সরকার কাজ করছে।