শিরোনাম
রাষ্ট্রীয় প্রটোকল উপেক্ষা?

নরসিংদীতে জেলা পরিষদ প্রশাসককে অতিথির তালিকায় নিচে রাখায় প্রশ্ন

নরসিংদীতে জেলা পরিষদ প্রশাসককে অতিথির তালিকায় নিচে রাখায় প্রশ্ন

রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমে ২৪ নম্বর অবস্থানে থাকা জেলা পরিষদের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসককে নরসিংদীতে জাতীয় সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে অতিথির তালিকায় নিচে রাখার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়াকে প্রধান অতিথি এবং পুলিশ সুপার মো: আব্দুল্লাহ আল-মারুফকে বিশেষ অতিথি করা হলেও জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন মাস্টারকে রাখা হয় দ্বিতীয় বিশেষ অতিথি হিসেবে। অথচ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যানদের রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী মর্যাদা নিশ্চিত করতে গত ৩০ জুলাই দেশের সব জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। সরকারি নির্দেশনার পরও নরসিংদী জেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানে এমন অতিথি তালিকা কীভাবে তৈরি হলো, তা নিয়ে সচেতন মহলে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম বা ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী জেলা প্রশাসক নিজ দায়িত্বাধীন এলাকায় ২৪ নম্বর ক্রমে অবস্থান করেন। একই ক্রমে রয়েছেন নির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। অন্যদিকে পুলিশ সুপার রয়েছেন ২৫ নম্বর ক্রমে। জেলা পরিষদের প্রশাসকদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনাও রয়েছে।

গত ৩০ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগ দেশের সব জেলা প্রশাসককে পাঠানো চিঠিতে জানায়, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, জাতীয় দিবস, সরকারি সভা, কূটনৈতিক অনুষ্ঠান, আসনবিন্যাস, আনুষ্ঠানিক চিঠিপত্র ও আমন্ত্রণপত্রে নামের ক্রমসহ সব ক্ষেত্রে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যানদের প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স, ১৯৮৬ (জুলাই ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত)’ অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁদের নির্ধারিত মর্যাদাক্রম যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকদের বলা হয়।

কিন্তু নরসিংদীতে জাতীয় সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে অতিথিদের অবস্থান নির্ধারণে মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের পর জেলা পরিষদের প্রশাসককে অতিথির তালিকায় নিচে রাখার কারণ কী, সেটিও স্পষ্ট নয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে কর্মরত একজন অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যানদের প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। এ নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটার সুযোগ নেই।

অবসরপ্রাপ্ত আরেকজন অতিরিক্ত সচিবের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটাতে ডিসির কোনো বাহাদুরি নেই, এটা অজ্ঞতা।’ জেলা প্রশাসককে রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা সম্পর্কে সচেতন থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারাও দায়িত্ব পালন করেন।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন মাস্টারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি খেয়াল করিনি।’

নরসিংদী জেলা বিএনপির সহসভাপতি খবিরুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘আমরা সরকারি দল করি। অথচ জেলা প্রশাসনের অনেক অনুষ্ঠানেই আমন্ত্রণ পাই না। এতে কোন দুঃখ নেই, তবে আজকের ঘটনায় যদি এমন হয়ে থাকে, তাহলে তা খুবই দুঃখজনক। রাষ্ট্র যেখানে সম্মান দিয়ে নির্দেশনা জারি করে জেলা প্রশাসককে তা বাস্তবায়নের জন্য, সেখানে জেলা প্রশাসক এর ব্যত্যয় ঘটাতে পারেন না।’

এদিকে বিষয়টি জানতে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পরে তাঁর সরকারি নম্বরে বার্তাও পাঠানো হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম কেবল আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়; সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক মর্যাদা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখারও একটি স্বীকৃত কাঠামো। স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনার পরও যদি কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে নির্ধারিত মর্যাদাক্রম প্রতিফলিত না হয়, তাহলে তার ব্যাখ্যা দেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। নরসিংদীর এ ঘটনা সেই প্রশ্নই সামনে এনেছে—মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকার পরও অতিথিদের মর্যাদাক্রম নির্ধারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো কেন?

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর