সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার নাকতাড়া কালীমন্দিরের পুকুরঘাটে নবনির্মিত একটি ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, নাকতাড়া কালীমন্দিরের নামে ১৪ শতক দেবোত্তর সম্পত্তির পাশাপাশি স্থানীয়দের দেওয়া পুকুরের ৫৯ শতক এবং ডাঙা ৫৫ শতক জমি বর্তমানে মন্দিরের নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শ্রীউলা গ্রামের আবুল হোসেন কালীমন্দিরসংলগ্ন কিছু জমি দখল করে সেখানে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করে ইমরান হোসেন ও মনি নামে দুই ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেন। ইমরান সেখানে চায়ের দোকান এবং মনি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান পরিচালনা করে আসছেন।
নাকতাড়া কালীমন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্বজল কুমার মিত্র বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে মন্দিরের প্রধান ফটক ও পুকুরঘাট ভাঙচুর করা হয়েছিল। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন ও সরকারি কৌঁসুলি অসীম কুমার মণ্ডলের সহযোগিতায় পুকুরঘাটটি সংস্কার করা হয়। তবে গত চৈত্র মাসে পুকুর খননের সময় সেটি আবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি জানান, নারীদের স্নানের সুবিধার্থে সোমবার বিকেলে একটি নতুন ঘর নির্মাণ শেষ করে সবাই চলে যান। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চা ব্যবসায়ী ইমরান, জমির দাবিদার আবুল হোসেনের নির্দেশে ৮-১০ জনকে নিয়ে এসে নবনির্মিত ঘরটির অ্যাসবেস্টসের ছাউনি ও দেয়াল ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতা ও শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং পুলিশকে জানানো হয়। সন্ধ্যায় আশাশুনি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত ইমরান সেখান থেকে চলে যান।
মন্দির পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশ্বাস দেওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তবে মঙ্গলবারের মধ্যে সমাধান না হলে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে আবুল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ইমরান সাংবাদিকদের বলেন, যেখানে নতুন ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেটি রেকর্ডে মন্দিরের হলেও দীর্ঘদিন ধরে আবুল হোসেনের দখলে ছিল। তার নির্দেশেই ঘরটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহম্মেদ খান বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।