নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটের নির্ঝর কনভেনশন হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। এতে প্রকল্প অনুমোদনের জন্য নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আলম শিকদার। তিনি বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর ও ক্লোজার ধসে যাওয়ার পর কোম্পানীগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বন্যা ও পানি নিষ্কাশনসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী রেগুলেটর পুনর্নির্মাণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়ে আসছেন। নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ফলে সেই প্রত্যাশা পূরণের পথ তৈরি হয়েছে।
নুরুল আলম শিকদার বলেন, প্রকল্পটি শুধু মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আওতায় ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে কৃষি, জনজীবন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের নজরদারি ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থের অপব্যবহার রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর তদারকির আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য নির্মাণকাজের মান যাচাই, নিয়মিত পরিদর্শন ও কার্যকর পরিবীক্ষণব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বসুরহাট পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফজলুল কবির ফয়সাল, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান রাজন, বসুরহাট পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক ওবায়দুল হক রাপেলসহ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বক্তারা বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ ও নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যকর পরিবীক্ষণব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এতে কোম্পানীগঞ্জের দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।