জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল কিনতে মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এ ভিড় শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। তবে প্রশাসন ও ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি গ্রাহক একসঙ্গে তেল নিতে আসায় অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেকেই গাড়ির ট্যাংক পূর্ণ করার পাশাপাশি জারিকেন ও বোতলে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করতে দেখা যায়।
তেল নিতে আসা কয়েকজন চালক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে জ্বালানি তেলের সংকটের খবর শুনে তারা অতিরিক্ত তেল কিনতে এসেছেন। পরে ফিলিং স্টেশনে এসে জানতে পারেন, সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই এবং পুরো ঘটনাই গুজব।
উপজেলার মেসার্স আফতাব, মেসার্স আলম ও মেসার্স তিস্তা ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষ জানান, ডিপো থেকে নিয়মিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সরবরাহ কমানো বা বন্ধ করার কোনো নির্দেশনা তারা পাননি। গুজবের কারণে একসঙ্গে অতিরিক্ত গ্রাহক আসায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। সবাই প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করলে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হবে না।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে কেউ যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল ক্রয় বা মজুত না করেন। উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের জন্য সরকারের প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। সংকটের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।