শিরোনাম

বাবার বিক্রি করা জমি অস্বীকার ছেলের, দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

বাবার বিক্রি করা জমি অস্বীকার ছেলের, দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় বাবার বিক্রি করা জমি অস্বীকার করে তা দখলে নিয়ে টিনশেড ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ছেলে আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমির ক্রেতার উত্তরাধিকারী মো. মোজাম্মেল হক জমি ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হলেও এখনো বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো সুরাহা হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীর।

ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের গোফাপাড়া এলাকার নিজামাবাদ মৌজায়। বিরোধপূর্ণ জমিতে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পাশের ছোট একটি ঘরে খড়ি ও বিছানা রেখে সেখানে বসবাস করছেন আব্বাস আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জমিসংক্রান্ত নথি ও ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, নিজামাবাদ মৌজার এসএ ২৩৮ নম্বর খতিয়ানের এসএ ৫৫৩৮ দাগে মোট ৮৫ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ১৯ শতক জমি ১৯৯৪ সালের ১৯ জুন ৪৩৮৬ নম্বর কবলা দলিলের মাধ্যমে আবুল সিদ্দিকুর রহমানের কাছ থেকে মোবারক আলী কিনে নেন। মোবারক আলীর মৃত্যুর পর তার ছেলে মো. মোজাম্মেল হক উত্তরাধিকার সূত্রে ওই জমির মালিক হন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও একটি পুকুর রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মোজাম্মেল হকের অভিযোগ, আবুল সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে আব্বাস আলী ওই জমির মালিকানা অস্বীকার করে সাড়ে ১৯ শতকের মধ্যে সাড়ে ১২ শতক জমি দখলে নিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি অসুস্থ থাকাকালে বাইরে থাকার সুযোগে জমিটি দখল করা হয়। এ সময় জমিতে থাকা বাঁশগাছসহ বিভিন্ন সম্পদও তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে দাবি করেন মোজাম্মেল।

ভুক্তভোগী মোজাম্মেল হক বলেন, “আমি আমার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে যেতে পারছি না। আব্বাস আলী আমাকে জমিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। আমার জমিতে এখন আমিই যেতে পারছি না। আমি জমি দখলমুক্ত করে ফেরত চাই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

তবে জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্বাস আলী। তিনি বলেন, “তারা যে জমি নিজেদের বলে দাবি করছে, সেটি তাদের নয়। জমির মালিক আমি। আমি কারও জমি দখল করিনি; নিজের জমিতেই বসবাস করছি। বরং তারাই আমার জমি দখলের চেষ্টা করছে।”

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে আদালতই সিদ্ধান্ত দেবেন।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর