শিরোনাম
অপরাধীদের ঘুম হারাম

আট মাসে ঠাকুরগাঁও ডিবির একের পর এক সাফল্য

আট মাসে ঠাকুরগাঁও ডিবির একের পর এক সাফল্য

মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস, ডাকাতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান চালিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত তথ্যভিত্তিক এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিবির লাগাতার তৎপরতায় অপরাধী মহলে চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বেড়েছে স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ।

পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ এটিএম গোলাম রসুলের নেতৃত্বে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাদকবিরোধী ৪৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ২৭ বোতল বিদেশি মদ, ৫০ বোতল ফেনসিডিল, ১ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা, ৩০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ও ১ কেজি গাঁজা। এছাড়া মাদক বিক্রির ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং ২৮৪ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়। ক্যাসিনো-সংক্রান্ত কার্যক্রমে ব্যবহৃত ১৫টি মোবাইল ফোন ও ৮৯টি সিমকার্ডও উদ্ধার করেছে ডিবি।

কবরস্থান থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

অস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রেও সাফল্য পেয়েছে ডিবি। বালিয়াডাঙ্গী থানার বালিয়াপুকুর গ্রামের একটি কবরস্থানে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি ৭ এমএম পিস্তল, একটি ৭.৬৫ পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও ১৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

গোপন স্থানে অস্ত্র মজুদের ঘটনায় এ অভিযান জেলার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

শীর্ষ মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার

ডিবির ধারাবাহিক অভিযানে জেলার তিন শীর্ষ মাদক কারবারিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বালিয়াডাঙ্গীর মো. মোজাম্মেল হক ওরফে মোজাম (৪৯)-এর বিরুদ্ধে ৩২টি, পীরগঞ্জের মো. ফারুক হোসেন (৪২)-এর বিরুদ্ধে ৩০টি এবং মো. মোস্তফা আলী ওরফে আকাশ আহমেদের (৩৫) বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা রয়েছে বলে ডিবি সূত্র জানিয়েছে।

আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার

মাদক কারবারিদের পাশাপাশি আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধেও অভিযান চালিয়েছে ডিবি। বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রের দাবি, তাদের গ্রেপ্তারের পর ঠাকুরগাঁও জেলায় এখন পর্যন্ত কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রংপুর থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে এসে গোপন স্থানে অবস্থান নেওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী মেরীল সুমনকেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়। নির্বাচনী নাশকতার আশঙ্কায় তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়েছিল বলে পুলিশ জানায়।

বিকট শব্দের দুই মোটরসাইকেল আটক

অপরাধ দমনের পাশাপাশি জনশৃঙ্খলা রক্ষায়ও অভিযান চালিয়েছে ডিবি। ঠাকুরগাঁও সদর থানা এলাকায় বিকট শব্দ সৃষ্টিকারী দুটি মোটরসাইকেল আটক করা হয়। পরে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় একটিকে ৩২ হাজার টাকা এবং অপরটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে মাদকসেবীদেরও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এক নারীকে তিন মাস এবং এক পুরুষকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া পৃথক অভিযানে গোপাল ঠাকুরের ছয়টি মূর্তি, পাঁচটি সাদা রঙের কয়েন ও একটি পিতলের কলস উদ্ধার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এটিএম গোলাম রসুল জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডিবির কার্যক্রমে দৃশ্যমান গতি এসেছে। নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য বিশ্লেষণ, অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত অভিযান পরিচালনার কারণে মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে ডিবির কার্যক্রম আরও কার্যকর হয়েছে।

ডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য অপরাধীদের আগেই শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক, অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে এ ধরনের ধারাবাহিক ও তথ্যভিত্তিক অভিযান অব্যাহত থাকলে ঠাকুরগাঁওয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস, ডাকাতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ভবিষ্যতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর