আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ৪ নম্বর ফকিরহাট সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন উপজেলা বিএনপির নেতা শেখ মুশফিকুজ্জামান রিপন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নকে আধুনিক ও বৈষম্যহীন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় জানিয়েছেন তিনি।
১৯৭৩ সালের ২৬ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া শেখ মুশফিকুজ্জামান রিপনের শৈশব ও বেড়ে ওঠা ফকিরহাটে। তাঁর বাবা মরহুম এম এ ছালাম ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সোনালী ব্যাংক ফকিরহাট শাখার প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপক ছিলেন।
রিপনের রাজনৈতিক জীবনের শুরু ১৯৯২ সালে। সে সময় পারভেজ-টিপু পরিষদের প্যানেল থেকে উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। ১৯৯৫ সালে সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৩ সালের সম্মেলনে তৃণমূলের সরাসরি ভোটে পুনরায় উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০২১ সালে কেন্দ্রীয় বিএনপির অনুমোদিত ফকিরহাট উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন তিনি।
রিপনের দাবি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি হন এবং একাধিকবার কারাভোগ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ১২ বছরের বেশি সময় তিনি পরিবার-পরিজন থেকে দূরে ফেরারি জীবন কাটিয়েছেন। এ সময় তাঁর মালিকানাধীন প্রায় পাঁচ একর আয়তনের মৎস্যঘেরও লুটপাট ও ভাঙচুরের শিকার হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজনীতির পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি হিসেবেও এলাকায় কাজ করেছেন রিপন। ২০০২ সালে ১ নম্বর আট্টাকী ওয়ার্ড থেকে প্রথমবার এবং ২০১৩ সালে দ্বিতীয়বার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ইউপি সদস্য থাকাকালে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর দাবি, জনপ্রতিনিধি থাকাকালে এলাকায় কাঁচা রাস্তা সোলিং, কালভার্ট নির্মাণ, জটার খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বাজারের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের মধ্যে সামাজিক সুরক্ষা ভাতা ও রেশন কার্ড পৌঁছে দিতে ভূমিকা রেখেছেন।
২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন রিপন। তাঁর ভাষ্য, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি প্রশাসনিক সহায়তার ব্যবস্থা এবং ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছ সরিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে তিনি কাজ করেন।
ক্রীড়াঙ্গনেও রিপনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি আট্টাকী স্পোর্টিং ক্লাব ও কাজীদিয়া মনছুর স্মৃতি সংসদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং খুলনা দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লীগসহ বাগেরহাটের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় খেলেছেন বলে জানা যায়।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপন বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে ফকিরহাট সদর ইউনিয়নকে মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত করার পাশাপাশি নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন। উন্মুক্ত ওয়ার্ড সভার মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং যুবসমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে রিপন বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, মামলা ও কারাভোগের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি তাঁকে ফকিরহাট সদর ইউনিয়নে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মূল্যায়ন করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সমর্থন নিয়ে একবার জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।