শিরোনাম

৪০ কোটি টাকার ড্রেন প্রকল্পে বর্ষায় দুর্ভোগে নগরবাসী

৪০ কোটি টাকার ড্রেন প্রকল্পে বর্ষায় দুর্ভোগে নগরবাসী

ভরা বর্ষা মৌসুমে সাতক্ষীরা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরসিসি ড্রেন নির্মাণকাজ চললেও এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। বর্ষার মধ্যে রাস্তা খুঁড়ে নির্মাণকাজ শুরু করায় একদিকে যেমন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সমন্বয়হীন পরিকল্পনার কারণে একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় আরেকটি প্রকল্পের ক্ষতি হচ্ছে।

দেড়শ বছরেরও বেশি পুরোনো সাতক্ষীরা পৌরসভার অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যেই বর্তমানে শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় সাড়ে ১৪ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে।

পৌরসভার রসুলপুর, মেহেদীবাগ, মুন্সিপাড়া, সরকারি কলেজ সড়ক, কাটিয়া সরকারপাড়া, লস্করপাড়া ও পলাশপোল বউবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় একযোগে খননকাজ চলছে। নির্মাণসামগ্রী ও খনন করা মাটি সড়কের ওপর ফেলে রাখায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। টানা বৃষ্টিতে অনেক সড়কে কাদা জমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ড্রেন নির্মাণের যে নকশা অনুসরণ করা হচ্ছে, তা অনেক আগেই প্রণয়ন করা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক উঁচু করা হলেও সেই পরিবর্তন নকশায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে অনেক স্থানে নির্মাণাধীন ড্রেন সড়কের তুলনায় নিচু হয়ে যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা নিরসনে এসব ড্রেনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মেহেদীবাগ এলাকায় ড্রেন নির্মাণকাজের কারণে এলজিইডি নির্মিত একটি সড়কের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি একটি বিদ্যুতের খুঁটিও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

শহরের বাসিন্দা আসাদুজ্জামান মধু বলেন, সড়ক নির্মাণের আগে ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সম্পন্ন করা হলে সরকারি অর্থের অপচয় কমত। একই সঙ্গে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে অন্য প্রকল্প যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়া উচিত।

পরিবেশবিদ ও মানবাধিকারকর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত ড্রেন ভবিষ্যতে অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। এছাড়া অপরিশোধিত পানি প্রাণসায়র খালে পড়লে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকিও বাড়বে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এম এম নুর আহমেদ বলেন, প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা নিরসনে এর সুফল পাওয়া যাবে। নির্মাণকাজের সময় সাময়িক ভোগান্তি হলেও দীর্ঘমেয়াদে নগরবাসী উপকৃত হবে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা কেএফডব্লিউর অর্থায়নে ১১ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৪ কোটি টাকা। এছাড়া পৌরসভার বিশেষ বরাদ্দ, নিজস্ব তহবিল ও আইওআইডিপি প্রকল্পের আওতায় আরও সাড়ে ৩ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৬ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ৩৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকার এ প্রকল্পের প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর