রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন দেশের ১৮তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দিনের এই সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। জেলার গর্বিত সন্তানকে বরণ করে নিতে শহরজুড়ে চলছে ব্যাপক সাজসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) শহরের চৌরাস্তা, বাসস্ট্যান্ড, কলেজ রোডসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও সড়কদ্বীপগুলোতে চলছে রং ও পরিচ্ছন্নতার কাজ। একই সঙ্গে নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।
ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা। স্থানীয় নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মঞ্চ নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।
.jpeg)
রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাসেম বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ায় পুরো ঠাকুরগাঁওবাসী গর্বিত। নিজ জেলার এই সন্তান রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো এলাকায় আসছেন—এটি স্থানীয়দের জন্য আনন্দের বিষয়।
প্রবীণ শিক্ষাবিদ মনোতোষ কুমার দেব বলেন, নিজ জেলার একজন কৃতী সন্তানকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন হতে দেখা এবং তাঁকে নিজ ভূমিতে বরণ করে নেওয়া অত্যন্ত মর্যাদার বিষয়। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো শহরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. মুহাম্মদ আবু খায়রুল কবির বলেন, রাষ্ট্রপতির ঐতিহাসিক আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হবে বলে আশা করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সফরের প্রথম দিন রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে তাঁর হেলিকপ্টার অবতরণের কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি সার্কিট হাউসে গিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।

পরে সেনুয়াপাড়ার পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত তাঁর বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর কালীবাড়িস্থ নিজ বাসভবনে গিয়ে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম শেষে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন।
সন্ধ্যায় স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্বজনদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে নিজ বাসভবনে রাতযাপন করবেন তিনি।
সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ মহাসড়কসংলগ্ন জামালপুর এলাকায় বহুল প্রত্যাশিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির। স্থানীয় শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্মিত হতে যাওয়া এ বিশ্ববিদ্যালয়টি উত্তরাঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সার্কিট হাউসে বিদায়ী গার্ড অব অনার গ্রহণ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন রাষ্ট্রপতি।
.jpeg)
এদিকে রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সড়ক ও অনুষ্ঠানস্থলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ইতোমধ্যে নিরাপত্তা তদারকি শুরু করেছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন জানান, রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সার্বিক নিরাপত্তাবলয় কার্যকর করা হবে, যাতে রাষ্ট্রপতির সব কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।