শিরোনাম
Supra, Civic ও MX-5 জব্দ

‘পার্টস’ আমদানির আড়ালে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি!

‘পার্টস’ আমদানির আড়ালে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি!

যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দেশে এনে স্থানীয়ভাবে জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তরের অভিযোগে কক্সবাজারে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (CIID)। জব্দ করা গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে Toyota Supra, Honda Civic ও Mazda MX-5।

কাস্টমস গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে সন্দেহ করা হচ্ছে, গাড়িগুলো সম্পূর্ণ যানবাহন হিসেবে আমদানি না দেখিয়ে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ হিসেবে দেশে আনা হয়ে থাকতে পারে। পরে স্থানীয়ভাবে সংযোজন বা অ্যাসেম্বল করে সেগুলো পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তর করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।

CIID সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে কক্সবাজারের কলাতলী রোডের Ocean Paradise Hotel and Resort এলাকায় অভিযান চালায় চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের একটি দল। এ সময় সন্দেহজনক অবস্থায় থাকা তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি শনাক্ত করে জব্দ করা হয়।

অভিযানকালে গাড়িগুলোর প্রচলিত নম্বর প্লেটের পরিবর্তে ‘SINH4’, ‘S4FIAT’ ও ‘ESH4H’ লেখা থাকার বিষয়টি কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এরপর গাড়িগুলোর আমদানি প্রক্রিয়া, মালিকানা, শুল্ক-কর পরিশোধ এবং দেশে এনে স্থানীয়ভাবে সংযোজনের বৈধতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

CIID-এর কর্মকর্তারা বলছেন, জব্দ করা গাড়িগুলোর আমদানি নথি, Bill of Entry, আমদানি ঘোষণার বিবরণ, HS Code, ঘোষিত মূল্য, শুল্ক-কর পরিশোধের তথ্য, VIN ও Chassis নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে গাড়ির বিভিন্ন অংশ কীভাবে দেশে এসেছে এবং সেগুলো কোথায় ও কীভাবে সংযোজন করে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তর করা হয়েছে, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সম্পূর্ণ গাড়ি হিসেবে আমদানি না দেখিয়ে যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে পণ্যের প্রকৃত পরিচয় গোপন, ভুল ঘোষণা, অসত্য তথ্য প্রদান অথবা প্রযোজ্য শুল্ক-কর এড়ানোর কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় কক্সবাজারের হাসিবুর রহমান সিনহা, গাজীপুরের আজমাইন রাইহান, ঢাকার নকিবুল হাসান, গাজীপুরের শরাফাত রহমান এবং ঢাকার সিফিয়াত মাহমুদের নাম প্রাথমিক অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট হিসেবে পাওয়া গেছে। তবে গাড়িগুলোর মালিকানা, ব্যবহার, আমদানি-সংক্রান্ত সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয়ভাবে সংযোজনের সঙ্গে তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা এখনো যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগকে চূড়ান্ত বা প্রমাণিত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তে অসত্য তথ্য বা ভুল ঘোষণা, শুল্ক-কর ফাঁকি, পণ্যের প্রকৃত পরিচয় গোপন কিংবা চোরাচালানের উপাদান পাওয়া গেলে কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধের ধরন ও সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে জরিমানা এবং পণ্য বাজেয়াপ্তের মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

এদিকে তিনটি গাড়ি জব্দের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে যন্ত্রাংশের ঘোষণা ব্যবহার করে শুল্ক-কর সুবিধা নেওয়ার কোনো কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল কি না। জব্দ করা গাড়ির আমদানি নথি ও শুল্ক-কর সংক্রান্ত তথ্য যাচাই শেষ হলেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পার্টসের ঘোষণা দিয়ে দেশে আনা হয়েছিল, নাকি বৈধ আমদানি প্রক্রিয়ার আড়ালে শুল্ক-কর ফাঁকির কোনো কৌশল ছিল—এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে CIID।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর