একটি মুঠোফোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচিতি তার ‘আইএমইআই’ (IMEI) নম্বর। কিন্তু ডিজিটাল প্রযুক্তির গ্যাঁড়াকলে সেই অনন্য আইডেন্টিটি বদলে ফেলে চোখ ফাঁকি দেওয়া হচ্ছিল আইনি সংস্থার। অবশেষে বাগেরহাটের ফকিরহাটে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এক সাঁড়াশি অভিযানে উন্মোচিত হলো এই চোর চক্রের চাঞ্চল্যকর কারসাজি। উদ্ধার করা হয়েছে ৫৯টি চোরাই স্মার্টফোন এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত পৌনে ১০টার দিকে ফকিরহাট সদরের 'পুষ্প টেলিকম' নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ঝটিকা অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। দোকানটির স্বত্বাধিকারী রেজাউর রহমান পলাশের নেপথ্যে চলছিল চোরাই ফোনের এই অবৈধ রূপান্তরের কারবার।
অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— রেজাউর রহমান পলাশ (৩৪), মোঃ অহিদুল ইসলাম (২৬), চন্দন সাহা (৩০) এবং মোঃ হুছাইন খান (২২)। তাদের বাড়ি খুলনা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তর তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।
তিনি জানান, একটি ফোন চুরি হওয়ার পর পুলিশ মূলত আইএমইআই ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে। কিন্তু এই বিশেষ চক্রটি আধুনিক সফটওয়্যার ব্যবহার করে নিমেষেই আইএমইআই নম্বর বদলে ফেলত, ফলে ফোনগুলো আর ট্রেস করা সম্ভব হতো না। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ এই জালিয়াতির মূল আস্তানায় রেইড দেয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, অভিযানের সময় ৪ জনকে হাতেনাতে পাকড়াও করা গেলেও কৌশলে সটকে পড়ে চক্রের অন্য ৩ সদস্য। এ ঘটনায় জড়িত পলাতকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া হ্যান্ডসেটগুলো আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত মালিকদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ চলছে।