শিরোনাম

সৈয়দপুর রেলকারখানায় অনিয়মের অভিযোগ, ডিএস ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বদলি দাবি

সৈয়দপুর রেলকারখানায় অনিয়মের অভিযোগ, ডিএস ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বদলি দাবি

দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী সরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ তুলে তাঁদের বদলির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ঠিকাদার, শ্রমিক-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের একাংশ।

অভিযোগকারীদের দাবি, শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ দায়িত্ব নেওয়ার পর কারখানার মালামাল চুরি, অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগে পক্ষপাত, ঠিকাদারি কাজে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, ২০২১ সালে সৈয়দপুরে যোগদানের পর থেকে রেলওয়ের জমি ও কোয়ার্টার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী সরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ একর রেলওয়ের জমি ও কোয়ার্টার অর্থের বিনিময়ে বেদখলে মদদ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

কারখানার বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ, অস্থায়ী শ্রমিক (টিএলআর) নিয়োগে ডিএসের পছন্দের ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কারখানার মালামাল চুরির ঘটনায় মামলা ও আটকের ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া কারখানার উন্নয়নকাজ ও বিভিন্ন মেরামত কার্যক্রমে আগের সরকারের সময়ের ঠিকাদারদেরই প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, এসব অভিযোগের বিষয়ে রেল মন্ত্রণালয় অথবা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, কারখানার বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। সম্প্রতি ঢাকা থেকে আসা এক ব্যক্তিকে কারখানায় আটক করে থানায় হস্তান্তরের পর তিনি আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দেওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।

অন্যদিকে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী সরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে রেলওয়ের জমি ও কোয়ার্টার বেদখলে সহায়তার অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রশ্ন, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় রেলওয়ের বিপুল সম্পত্তি কীভাবে বেদখল হলো এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কী ভূমিকা পালন করেছেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কারখানার সংশ্লিষ্টদের একাংশ বলছেন, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা দেশের রেলওয়ে খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানে অনিয়ম, চুরি, জনবল ব্যবস্থাপনায় পক্ষপাত কিংবা প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা এবং কারখানার স্বার্থে দক্ষ ও স্বচ্ছ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, “আমি কোনো ধরনের দুর্নীতি-অনিয়মকে সাপোর্ট করি না। যারা অবৈধ সুবিধা চেয়ে পায়নি, তারাই মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দিয়ে যাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, তিনি দুর্নীতিবাজ হলে তদন্ত কমিটি করে তদন্ত করা হোক। দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর