সাতক্ষীরার আশাশুনিতে নিখোঁজের প্রায় ৩৮ ঘণ্টা পর কালাম সরদার (৬০) নামে এক ব্যবসায়ীর কাদামাখা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার আগরদাঁড়ি গ্রামের একটি বাড়ির পেছন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত কালাম সরদার আগরদাঁড়ি গ্রামের মৃত রহিম সরদারের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের ফল কিনে বাজারে বিক্রি করতেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বড় ভাই নূর ইসলামের সঙ্গে কালাম সরদারের বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
নিহতের ছেলে গোলাম কিবরিয়া বলেন, তাঁর বড় চাচা নূর ইসলাম তাঁর দাদা মৃত আব্দুর রহিমের কাছ থেকে আট শতক জমি কেনার একটি দলিল থাকার দাবি করেন। তবে ওই দলিলটি ভুয়া বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, জমিটি পৈতৃক সূত্রে তাঁর বাবা কালাম সরদারের মালিকানায় ছিল এবং পরে তাঁর নামে নামজারিও করা হয়। আরএস রেকর্ডেও জমিটি তাঁর বাবার নামে রয়েছে।
গোলাম কিবরিয়া আরও বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে ২০২৪ সালে নূর ইসলাম সাতক্ষীরা সিভিল আদালতে মামলা করেন। এরপর দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ আরও বেড়ে যায়।
তিনি জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাশের মোড়ে চা খেতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তাঁর বাবা। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। পরে সোমবার সকালে আশাশুনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এরপর সোমবার বেলা ১১টার দিকে প্রতিবেশী সালেহা খাতুন নূর ইসলামের বাড়ির পেছনে কালাম সরদারের কাদামাখা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ খান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে সোমবার বিকেলে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের ঘাড়, গলা ও কোমরের চামড়া ছিলে যাওয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ওসি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।