বিগত সময়ে বিদ্যুৎ খাতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
রোববার সকালে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মৎস্য পক্ষ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবেও জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সরাসরি দেখভাল করছেন এবং এ নিয়ে জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, অল্প সময়ের মধ্যেই সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

ফরহাদ হোসেন আজাদ আরও বলেন, বাড়ির ছাদ, অনাবাদি জমি, নদীর তীরসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তি, সমষ্টিগত উদ্যোগ ও বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
আলোচনা সভায় জাতীয় মৎস্য পক্ষের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাছ দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস। মাছের উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিতে হবে।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ডা. কে এম আব্দুল হালিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, মৎস্যচাষি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মৎস্য চাষে বিশেষ অবদান রাখায় কয়েকজনকে পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়।
এর আগে জাতীয় মৎস্য পক্ষ দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।