নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রাসুয়া ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় ভয়াবহ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭০ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় নেপাল ও তিব্বতে এখনো প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮০০ জনের বেশি বিদেশি পর্যটক বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
নেপালের পর্যটন কর্মকর্তা ও পুলিশের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। অন্যদিকে বিবিসির প্রতিবেদনে নেপালি পুলিশের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ২৭০ জনে পৌঁছেছে।
নিখোঁজদের মধ্যে ২৮ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নেপালে অন্তত ৫৪ জন মার্কিন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে নেপালকে ৫ লাখ ডলার জরুরি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অর্থ আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী সরবরাহে ব্যয় করা হবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ জানিয়েছেন, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকেও ১০৫ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে কলকাতার ৩২ জন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
দুর্যোগে নদীর পানির প্রবল স্রোতে বহু বাড়িঘর ভেসে গেছে। কোথাও কোথাও কাদামাটির নিচে চাপা পড়েছে বসতবাড়ি। নেপালি পুলিশের প্রকাশিত ছবি ও এএফপির ছবিতে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে।
এদিকে দুর্যোগে দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে। নেপাল সেনাবাহিনী দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত সদস্য মোতায়েন করেছে।
অন্যদিকে নিখোঁজদের উদ্ধারে ‘সর্বাত্মক’ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। নেপাল-চীন সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ গিরং সীমান্তপথও দুর্যোগের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।