মানিকগঞ্জ-সিংগাইর-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের নয়াকান্দি এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের স্থাপন করা একটি অস্থায়ী ট্রাফিক বেরিয়ার ও অফিসঘর ট্রাক দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা সোয়া ১১টার দিকে স্থানীয় ট্রাকমালিক ও চালকদের একটি দল সংগঠিত হয়ে এ ভাঙচুর চালায়। অতিরিক্ত ওজনের পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে সড়ক বিভাগ স্থাপনাটি নির্মাণ করেছিল। তবে ভাঙচুরের পূর্বে সেখানে ট্রাকচালকদের কাছে অবৈধ চাঁদা দাবি এবং মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সকালে, যখন ইউনুস আলী নামের এক ট্রাকচালক পণ্য নিয়ে সিংগাইরের দিকে যাচ্ছিলেন। নয়াকান্দির বেরিয়ার গেটে পৌঁছালে সেখানকার দায়িত্বরত কর্মী ও সুপারভাইজার নাসির তাঁর কাছে চালানের নথি দেখতে চান এবং টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী ট্রাকচালক ইউনুস আলী অভিযোগ করে বলেন, “নয়াকান্দিতে আসলে স্কেলের লোকজন গাড়ি থামিয়ে টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় আমাকে বাথুলির মূল স্কেল ঘুরে হেমায়েতপুর হয়ে যেতে বলা হয়। এর প্রতিবাদ করলে তারা আমাকে মারধর করে।” জখম ইউনুস বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী রাজিয়া বেগম।
এদিকে জেলা ট্রাক মালিক সমিতির নেতাদের একাংশের দাবি, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের বাথুলিতে সড়ক বিভাগের একটি মূল এক্সেল লোড স্কেল থাকা সত্ত্বেও নয়াকান্দিতে সেটির ভুয়া শাখা পরিচয় দিয়ে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে টাকা আদায় করা হচ্ছিল। রাসেল মিয়া ও আব্দুর রহমান নামে দুই ট্রাকমালিক নেতা অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিক উদ্দিন ভূইয়া হাবুর নাম ভেঙে চালকদের কাছ থেকে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা করে নিচ্ছিল ওই অসাধু চক্র। চাঁদা দিতে না চাইলে চালকদের নিয়মিত হয়রানি করা হতো। সকালে চালক ইউনুস আলীকে মারধরের খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ মালিক ও চালকেরা একত্রিত হয়ে অবৈধ আস্তানা হিসেবে চিহ্নিত বেরিয়ার গেটটি ভেঙে দেন।
তবে মারধর ও অবৈধ চাঁদা আদায়ের সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেছেন বেরিয়ার গেটের সুপারভাইজার নাসির। তিনি পাল্টা দাবি করে বলেন, “চালকের কাছে পণ্যের চালানের ফাইল দেখতে চাইলে তিনি অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেন। তাঁর ট্রাকে অতিরিক্ত ওজন (ওভারলোড) থাকায় নির্ধারিত আইনি নিয়ম মেনে বাথুলি স্কেল ঘুরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হন। সেখানে কেবল কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে, কোনো মারধর বা চাঁদা দাবি করা হয়নি।”
সড়ক রক্ষা বনাম বিকল্প পথের দ্বন্দ্ব
সড়ক বিভাগের তথ্যমতে, মহাসড়কে অতিরিক্ত ওজনের গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি বাথুলি এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রটি পুনরায় কার্যকর করা হয়। কিন্তু সেই মূল স্কেলটি এড়াতে অনেক ভারী যানবাহন বিকল্প হিসেবে হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক ব্যবহার শুরু করে। অনিয়ন্ত্রিত ওভারলোডের চাপে সড়কগুলোর মারাত্মক ক্ষতি হতে শুরু করায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির নির্দেশনায় নয়াকান্দি ও গোলড়া মোড়ে অস্থায়ী বেরিয়ার বসানো হয়, যাতে অতিরিক্ত ভারী যানবাহনকে ফেরত পাঠানো যায়।
অস্থায়ী এই বেরিয়ারটির আইনি অনুমোদন, অর্থ আদায়ের সত্যতা এবং রাজনৈতিক নেতা রফিক উদ্দিন ভূইয়া হাবুর নাম ব্যবহারের বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
এদিকে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, চালককে প্রহার কিংবা বেরিয়ার ও অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই থানায় আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।