শিরোনাম

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম আসরেই বাজিমাত রংপুরের

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম আসরেই বাজিমাত রংপুরের

প্রথমবারের মতো আয়োজিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসেই নিজেদের জাত চিনিয়ে দিলো রংপুর অঞ্চলের খুদে খেলোয়াড়রা। বালিকা ফুটবলে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরাসহ মোট ৭টি ইভেন্টে পুরস্কার ছিনিয়ে এনেছে তারা, ঘরে তুলেছে ৪টি ট্রফি। এই কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ খেলোয়াড়দের উষ্ণ সংবর্ধনা দিয়েছে রংপুর বিভাগীয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে ঢাকা থেকে ট্রফি হাতে যখন খেলোয়াড়রা রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে পা রাখেন, তখন পুরো স্টেডিয়াম যেন মেতে ওঠে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে। চোখে-মুখে গর্বের ঝিলিক নিয়ে তারা উদযাপন করেন নিজেদের এই ঐতিহাসিক সাফল্য।

এবারের আসরে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে বালিকা ফুটবল দল—চ্যাম্পিয়ন হয়ে। আর এই জয়ের নেপথ্যে বিশেষ অবদান রেখেছে রংপুর সদর উপজেলার পালিচড়া গ্রামের ৮ জন "ফুটবল কন্যা", যারা মূল একাদশে থেকে প্রতিটি ম্যাচে দেখিয়েছে দুর্দান্ত নৈপুণ্য।

চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য অনন্যা, জয়া আক্তার মিলাসহ অন্য খেলোয়াড়রা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "প্রথম আসরেই চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে আমরা দারুণ খুশি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ হয়েছে, তিনি নিজেও আমাদের খোঁজখবর নিয়েছেন।" ভবিষ্যতে দেশে-বিদেশে খেলে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করার প্রত্যয় জানিয়ে তারা আরও ঘন ঘন টুর্নামেন্ট আয়োজন ও অনুশীলনে সহযোগিতার দাবিও তুলে ধরেন।

দলের এই সাফল্যের রহস্য জানাতে গিয়ে বালিকা ফুটবল দলের কোচ মিলন মিয়া বলেন, "পরিকল্পনামাফিক খেলা এবং খেলোয়াড়দের দৃঢ় আত্মবিশ্বাসই আমাদের চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছে। এই জয়ের ধারা আগামীতেও অব্যাহত রাখতে চাই।"

দুপুরে বিজয়ীরা ট্রফি হাতে ট্রাকে চড়ে ঘুরে বেড়ান নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে, যা রূপ নেয় এক বর্ণাঢ্য বিজয় শোভাযাত্রায়। এরপর রংপুর বিভাগীয় সদর দপ্তর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান, যেখানে প্রতিটি খেলোয়াড়ের গলায় ফুলের মালা ও হাতে উপহার তুলে দেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার পরিচালক আবু জাফর, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মোতালেব সরকার, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

রংপুর জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, এবারের আসরে রংপুরের সাফল্যের তালিকা বেশ দীর্ঘ—ফুটবল ও কাবাডিতে বালিকা দল চ্যাম্পিয়ন, ক্রিকেট ও কাবাডিতে বালক দল রানার্সআপ, ১০০ মিটার দৌড়ে রৌপ্য পদক, ব্যাডমিন্টনে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে আদনিন, জুডোর -৪৫ কেজি বিভাগে স্বর্ণপদক জিতেছে তাবাসসুম, লংজাম্পে বালকদের মধ্যে স্বর্ণ জিতেছে আহতাব নুর, আর বালিকাদের লংজাম্পে ব্রোঞ্জ জিতেছে তুবা।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর