শিরোনাম
চিকিৎসকের বদলে রোগী দেখছেন পিওন, বন্ধ পড়ে আছে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র
চিকিৎসকের বদলে রোগী দেখছেন পিওন, বন্ধ পড়ে আছে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র

জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। অথচ তার নিজ জেলা নরসিংদীর মনোহরদীতে স্বাস্থ্যসেবার চিত্র ভয়াবহ। চিকিৎসকের অভাবে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগী দেখছেন অফিস সহায়ক (পিওন)। কোথাও তালা ঝুলছে, কোথাও বছরের পর বছর নেই আবাসিক মেডিকেল অফিসার। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বঞ্চিত হচ্ছে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ মানুষের জন্য উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও রয়েছে ১০টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র। তবে বাস্তবে এই কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই কার্যত অচল। জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে মনোহরদীতে ১০টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও নিজস্ব ভবন রয়েছে মাত্র তিনটির। দুটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে চলছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম। বাকি পাঁচটির অবস্থান ও কার্যক্রম নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।

সরেজমিনে গোতাশিয়া ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন অফিস সহায়ক মোশাররফ হোসেন। রোগীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে তিনি নিজেই ওষুধ দিচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসা ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করা এই পিওনের কাছ থেকেই বাধ্য হয়ে সেবা নিচ্ছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গোতাশিয়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিয়োগপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. জাহিদ হাসান বর্তমানে শিবপুর উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে ওই কেন্দ্রে চিকিৎসক পদ কার্যত শূন্য।

একই চিত্র দেখা গেছে কাচিকাটা ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেখানে গিয়ে দেখা যায় কেন্দ্রটিতে তালা ঝুলছে। অন্যদিকে শুকুন্ধি ও লেবুতলা ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা চালাচ্ছেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসাররা। তাদের ভাষ্য, কয়েক বছর ধরেই সেখানে কোনো মেডিকেল অফিসার নেই।

উপজেলার বিভিন্ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহায়ক থাকার কথা। কিন্তু অধিকাংশ কেন্দ্রেই চিকিৎসক অনুপস্থিত। কোথাও জনবল সংকট, কোথাও দায়িত্বহীনতা, আবার কোথাও শুধুই কাগজে-কলমে পদায়ন।

এ বিষয়ে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হাসান মাহমুদ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে জনবল সংকট ও নানা প্রশাসনিক সমস্যার কথা জানিয়েছেন। একইভাবে নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মো. বুলবুল কবীরও ক্যামেরায় বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি তার জানা নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক না থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্বাস্থ্য বিভাগ। অথচ সরকারি বেতন-ভাতা নিয়মিত উত্তোলন হচ্ছে। এতে করে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

গ্রামের সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত এসব অনিয়ম বন্ধ করে প্রতিটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে হাজারো প্রান্তিক মানুষ।