পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে কোরবানির পশু প্রস্তুতির কার্যক্রম। উপজেলার ফুলসুতি, চরযশোরদী, রামনগর ও পুরাপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের ছোট-বড় খামারে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা।
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেউ এক বছর আবার কেউ দুই বছর ধরে গরু লালন-পালন করছেন। প্রাকৃতিক উপায়ে ঘাস, ভুসি ও দেশীয় খাদ্য খাইয়ে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পশু মোটাতাজা করা হচ্ছে। খামারিদের দাবি, তারা কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার করছেন না।
ফুলসুতি গ্রামের খামারি জামাল মেম্বার বলেন, “অনেক কষ্ট করে গরুগুলো পালন করছি। বাজার ভালো থাকলে লাভবান হতে পারবো বলে আশা করছি।”

তবে পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও শ্রমিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে খামারিদের মধ্যে। পুরাপাড়া গ্রামের খামারি আবুল কালাম আজাদ বলেন, “খাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে। তারপরও ভালোভাবে গরু প্রস্তুত করার চেষ্টা করছি।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, কোরবানির পশু সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে নিয়মিত খামার পরিদর্শন ও খামারিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এবার নগরকান্দা উপজেলায় মোট ২১ হাজার ৯৩টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪ হাজার ৮৭৮টি ষাঁড় গরু, ২ হাজার ৫৯৮টি গাভী এবং ১২ হাজার ৪৫২টি ছাগল। যা গত বছরের তুলনায় ৮৭৩টি বেশি।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জেলার বাইরেও পশু সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। খামারিরা আশা করছেন, ঈদের বাজার জমে উঠলে তারা ন্যায্যমূল্য পাবেন।