পঞ্চগড়ের জগদল বাজারের ‘মাতৃসেবা ফার্মেসি’র বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যুর সঙ্গে ফার্মেসি কিংবা সেখান থেকে দেওয়া ওষুধের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন তারা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম সংলগ্ন জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জগদল বাজারে গর্ভবতী নারীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার মতো নারী পল্লী চিকিৎসক না থাকায় মোছা. রোকসানা আক্তার এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি গর্ভবতী নারীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওজন ও রক্তচাপ মাপাসহ বিভিন্ন সেবা বিনামূল্যে দিয়ে আসছিলেন বলে দাবি করা হয়। নারী হওয়ায় স্থানীয় অনেক নারী তাঁর কাছে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার কথা স্বাচ্ছন্দ্যে বলতে পারতেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, গত ২৭ আগস্ট থেকে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে অর্থ দাবি করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ফার্মেসি ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব প্রচারণার কারণে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে ফার্মেসির পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই মৃত্যুর সঙ্গে মাতৃসেবা ফার্মেসি বা সেখান থেকে দেওয়া কোনো ওষুধের সম্পর্ক নেই। এ বিষয়ে শারমিন আক্তার ও সামী মিজানুর রহমানের নামে একটি লিখিত বক্তব্য রয়েছে বলেও জানানো হয়। ওই বক্তব্যে ফার্মেসির মালিকের কোনো দায় নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে দাবি করে এর মূল কপি সাংবাদিকদের দেখানো এবং ফটোকপি সরবরাহ করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাতৃসেবা ফার্মেসিতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে একটি অ্যান্টিবায়োটিক-সংক্রান্ত অনিয়ম বা কারিগরি ত্রুটির অভিযোগে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় জরিমানা করা হয় বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির। ফার্মেসির পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা আইন মেনে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেছে।
তবে ওই ঘটনাকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ফার্মেসির মালিক মোছা. রোকসানা আক্তার। তাঁর দাবি, কিছু প্রতিবেদনে ভুল ওষুধ বা প্রেসক্রিপশনের কারণে শিশুর মৃত্যুর জন্য ফার্মেসিকে দায়ী করা হয়েছে এবং মোবাইল কোর্টে এ কারণে জরিমানা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি এসব তথ্যের প্রতিবাদ জানান।
ফার্মেসির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, বিভিন্ন প্রচারণার কারণে অনেক গ্রাহক ও রোগী বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে আসা কমিয়ে দিয়েছেন। এতে ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিকভাবেও তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলেন, ফার্মেসিতে মানসম্মত ওষুধ সরবরাহের চেষ্টা করা হয় এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। অতীতের কোনো অসতর্কতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীলভাবে সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রকাশের আগে তা যাচাই-বাছাই করার আহ্বান জানান ফার্মেসির সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রচারণার কারণে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে পঞ্চগড় জেলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আব্দুর রহিম ও এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক ডিজার হোসেন বাদশা, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ সাদেকুজ্জামানসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সম্পাদক ও সদস্য এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।