কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা লিচু চোর অবলম্বনে নির্মিত নাটক একটি লিচু চোরের গল্প মঞ্চস্থ হয়েছে ।
বুধবার বিকেলে তেঁতুলিয়া উপজেলার নন্দগজ সরকারি প্রার্থমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই নাটক মঞ্চস্থ করে । নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দেন হাজ্জাজ তানিন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মনন, মেধা ও কল্পনার উন্মুক্ত বিকাশ ঘটাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা 'কারিগর'-এর বাস্তবায়নে শুরু হয়েছে ‘স্কুল সিলেবাস থিয়েটার'।
‘স্কুল সিলেবাস থিয়েটার’ ভিত্তিক এই কার্যক্রম বাংলাদেশে প্রথম। এই কার্যক্রমের আওতায় নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। শিক্ষক শিক্ষার্থী সহ এলাকার নানা শ্রেণী পেশার প্রায় অর্ধ সহস্রাধিক দর্শক নাটকটি উপভোগ করেন। এর আগে নাটকটির সঙ্গে যুক্ত ২৫ শিক্ষার্থীকে নিয়ে নাট্য কর্মশালা আয়োজন করা হয় এবং তাদের নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী জানান এই এলাকায় এরকম অনুষ্ঠান এই প্রথম। এর আগে শিক্ষার্থীরা এরকম কোন কার্যক্রমে অংশ নেয়নি। নাটকটিতে শুধু মাত্র লিচু চোরের কাহিনী নয় এর মাধ্যমে প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশের নানা প্রসঙ্গ এসেছে। শিশুরা আত্নবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। তারা সাবলিল ভাবে কথা বলতে পারছে। ইংরেজীতে কথা বলতে পারার সাহস অর্জন করেছে। শুধু তাই নয় নাট্য কর্মশালার মাধ্যমে তারা মেডিটেশন, ব্যায়াম, থিয়েটার গেম চর্চার মাধ্যমে নতুন কিছু চিন্তা করতে শিখতে চায়। এসয় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আনোয়ার হোসেন, ভজনপুর ডিগ্রী কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক মজিবর রহমান, কারিগরের নির্বাহী পরিচালক সরকার হায়দার প্রমুখ । উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আনোয়ার হোসেন বলেন এটা একটা অভুতপূর্ব আয়োজন । থিয়েটার শুধুমাত্র আনন্দের বিষয় নয় এ থেকে সামাজিক নানা মেসেজ পাওয়া যায়। আমরা আজ যা মেসেজ পেয়েছি তা পালন করবো। আয়োজক সূত্রে জানাগেছে তেঁতুলিয়া উপজেলার দশটি প্রার্থমিক বিদ্যালয়ে পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দশ টি নাটক মঞ্চস্থ হবে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক মোসা: শুকরিয়া পারভিন সারিয়ালজোত সরকারি প্রার্থমিক বিদ্যালয় মাঠে এই কর্মসূচীর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। কারিগরের নির্বাহী পরিচালক সরকার হায়দার বলেন, প্রত্যেক বিদ্যালয়ে ৭ দিনের নাট্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রশিক্ষকদের অপূর্ব মিলন এবং মানবিক হয়ে ওঠার গল্প আলোচনা হবে। এতে প্রান্তিক এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্দিপনা সৃষ্টির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিকাশ ঘটবে । সংস্কৃতি এক মহান সম্পদ। ৭ দিনের কর্মশালায় অংশ নেয়া ২৫ শিক্ষার্থী এক নতুন জগতের মধ্যে ঢুকে পড়বে। সেখানে প্রতিটা মুহুর্ত আশ্চর্যরকমের সুন্দর । যেদিন মঞ্চস্থ হবে সেদিনের দর্শকও আশ্চর্যরকমের সুন্দর অনুভব করবে। শুধু তারাই নয় মাঠে উপস্থিত প্রত্যেকটি প্রাণ ও পরিবেশ নতুন রুপে রঙ্গীন হয়ে জেগে উঠবে। নতুন এই সময়ের কথা আর গল্পগুলো তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেয়ার করবে । তার বন্ধুদের সাথে নিজের ভাষায় নিজেকে তুলে ধরার জন্যই হোক আর ছোটবেলার জেলাসির এপাশ ওপাশ হোক অথবা প্রচারের জন্যই হোক তারা আলোচনা করবে। তাদের পিতামাতা নিজের মনে সুখ অনুভব করবে। একসময় এরা শহরে যাবে পড়তে। অথবা গ্রামে থেকে বড় হলেও যেখানেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সেখানেই এরা যাবে। নিজেরা অংশ নেবে অথবা দর্শক হবে। তাদের মাধ্যমে আরও নতুন দর্শক বাড়বে। নাটকের দলটি হবে ওই গ্রামের আদর্শ। তারা যেদিকে হাটবে সেদিকেই ফুল ফুটবে। গাছে গাছে পাখিরা গান ধরবে। বটগাছ তলায় বাঁশি বাজবে। সবাই ভোরের আলো গায়ে মেখে ফজরের নামাজ পড়ে হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরবে। গ্রামে গ্রামে নাটক হবে,গান হবে, কবিতা হবে। দর্শক বাড়বে, মানুষ নির্মল আনন্দ করবে। অভিনব কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আয় বিস্তির্ণ হবে। রিজার্ভ বাড়বে।