শিরোনাম

বাক্সবন্দি লাশ ও এআইয়ের ফাঁদে নীলফামারীর হত্যার রহস্য উন্মোচন

বাক্সবন্দি লাশ ও এআইয়ের ফাঁদে নীলফামারীর হত্যার রহস্য উন্মোচন

ঢাকায় কোচিং করতে গিয়ে পরিচয়, এরপর বন্ধুত্ব। সেই সম্পর্কের আড়ালেই জমে ওঠে বিরোধ। শেষ পর্যন্ত টাঙ্গাইলের তরুণ রাকিব ইসলামকে হত্যার অভিযোগ ওঠে তারই পরিচিত নীলফামারীর ডিমলার মামুনের বিরুদ্ধে। হত্যার পর মরদেহ একটি বড় বাক্সে ভরে নিজ বাড়িতে এনে পুঁতে রাখার পাশাপাশি ঘটনাটি আড়াল করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে রাকিবকে জীবিত দেখিয়ে পরিবারের কাছে পাঠানো হয় ভুয়া ভিডিও। দাবি করা হয় ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ।

তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে পুরো ঘটনা। মামুনকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে ডিমলার বসুনিয়াপাড়ায় নিজ বসতভিটা থেকে মাটি খুঁড়ে রাকিবের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার খাদেমুল ইসলামের ছেলে রাকিব ইসলাম অনার্সে ভর্তির কোচিং করতে ঢাকার মিরপুর-১০ সংলগ্ন শ্যাওড়াপাড়ায় অবস্থান করছিলেন। সেখানে তার পরিচয় হয় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের আফসার আলীর ছেলে মামুনের সঙ্গে। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর একটি মেয়েকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ঢাকাতেই রাকিবকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ গোপন করার পরিকল্পনা করেন মামুন। একটি বড় বাক্সে মরদেহ ভরে সেটি নিয়ে তিনি ডিমলার বসুনিয়াপাড়ায় নিজের বাড়িতে যান।

বাড়িতে বাক্সটি নেওয়ার পর এর ভারী ওজন ও দুর্গন্ধ নিয়ে স্বজনরা প্রশ্ন করলে মামুন জানান, বাক্সের ভেতরে পচা মাছ রয়েছে। পরে ওই অজুহাতেই বাড়ির আঙিনায় গর্ত করে বাক্সটি মাটিচাপা দেওয়া হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

এরপর হত্যার ঘটনা আড়াল এবং রাকিবের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য আরও কৌশলী পরিকল্পনা করেন মামুন। নিহত রাকিবের পুরোনো ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি ভিডিও তৈরি করা হয়। ওই ভিডিওতে রাকিবকে জীবিত ও অপহৃত অবস্থায় দেখানো হয়। পরে সেটি পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

রাকিবের পরিবারের উদ্বেগ ও অভিযোগের সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ডিমলার বসুনিয়াপাড়ায় তার বসতভিটায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে মাটি খুঁড়ে একটি বাক্স থেকে রাকিবের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় রাকিবের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিহত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে পরিবারকে বিভ্রান্ত এবং মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার ঘটনাটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর