রাজধানীর মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও কলাতিয়া নিয়ে গঠিত রাজউক জোন-৫-এ তিন হাজার একরের বেশি জমিতে গড়ে উঠেছে ৫৩টি অননুমোদিত আবাসন প্রকল্প। রাজউকের নথি অনুযায়ী, এসব প্রকল্পের বড় অংশ কৃষিজমি ও প্লাবনভূমিতে। নিচু জমি ভরাট, প্লট বিক্রি ও ভবন নির্মাণ চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজউকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সবচেয়ে আলোচিত মধুমতি মডেল টাউন। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে অবৈধ ঘোষিত হওয়ার পরও প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম পরিবর্তন করে ‘নান্দনিক হাউজিং’ নামে প্লট হস্তান্তর ও রিসোর্ট পরিচালনার তথ্যও পাওয়া গেছে।
২২৯ একর কৃষিজমিতে গড়ে ওঠা সিলিকন সিটি প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রাজউককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে এরপরও সেখানে মাটি ভরাটসহ কার্যক্রম চলার অভিযোগ রয়েছে।
রাজউকের তালিকায় থাকা অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ৪৯৫ একরের আটি মডেল টাউন ও আটি সোসাইটি (সুজন হাউজিং), ২২৩ একরের মধু সিটি হাউজিং, ১২০ একর করে শ্যামলী মডেল টাউন ও মিলেনিয়াম সিটি, ১২৭ একরের চন্দ্রিমা মডেল টাউন এবং ১১২ একরের বসিলা গার্ডেন সিটি। এ ছাড়া ঢাকা উদ্যান, নবীনগর হাউজিং ও বসিলা ফিউচার টাউনসহ আরও কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পের কয়েকটিতে ভবন নির্মাণ করে বসবাসও করছেন মানুষ।
চন্দ্রিমা মডেল টাউনের মূল প্রতিষ্ঠান চন্দ্রিমা রিয়েল এস্টেটের ব্যবস্থাপক লুৎফর রহমান দাবি করেন, ২০২২ সালে রাজউক সংশ্লিষ্ট এলাকাকে বন্যাপ্রবণমুক্ত ঘোষণা করেছে। তবে প্রকল্পের ভেতরে ভবন নির্মাণের অনুমোদন এখনো দেওয়া হচ্ছে না বলে জানান তিনি। অন্য আবাসন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।
রাজউক জোন-৫-এর পরিচালক মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, এসব অনিয়ম দীর্ঘদিনের। মোহাম্মদপুর-বসিলা এলাকায় কিছু প্রকল্পে ১০ বছর আগেই বসতি গড়ে উঠেছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, অনুমোদনহীন প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, রাজউকের আওতাধীন এলাকায় আবাসন প্রকল্প গড়তে সংস্থাটির অনুমোদন প্রয়োজন।
রাজউকের নথিতেই যখন ৫৩টি অননুমোদিত আবাসন প্রকল্পের তথ্য রয়েছে, তখন বছরের পর বছর এসব প্রকল্পে জমি ভরাট, প্লট বিক্রি ও ভবন নির্মাণ কীভাবে চলল? আদালতের নির্দেশ ও নিজস্ব বিধিবিধান থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থা নিতে বিলম্বের কারণ কী? এসব প্রশ্নের জবাব এখন রাজউকের কাছেই প্রত্যাশিত।