শিরোনাম

পরকীয়া সন্দেহে ১৪ বছরের ওমরকে হত্যার পরিকল্পনা, ৫০ হাজার টাকার চুক্তি

পরকীয়া সন্দেহে ১৪ বছরের ওমরকে হত্যার পরিকল্পনা, ৫০ হাজার টাকার চুক্তি

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ১৪ বছর বয়সী কিশোর ওমর আলী হত্যা মামলার রহস্য পাঁচ বছর পর উন্মোচনের পথে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মো. নজরুল ইসলাম (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পুলিশের দাবি, দুই প্রতিবেশী গৃহবধূর সঙ্গে ওমরের কথিত সম্পর্কের সন্দেহ থেকেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এ জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথাও ছিল।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানি গ্রামের একটি ঘাসের ক্ষেত থেকে ওমর আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন তার বাবা বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।

দীর্ঘ তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে নজরুল ইসলামকে শনাক্ত করা হয়। পরে গত ৫ অক্টোবর রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওমরের সঙ্গে দুই প্রতিবেশী গৃহবধূর কথিত সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় এবং হত্যার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১ জানুয়ারি রাতে ওমরকে ধরে নির্জন একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে নির্যাতনের পর একটি বাথরুমে ফেলে রাখা হয়। পরে ২ জানুয়ারি রাতে তাকে হত্যা করে মরদেহ পাশের একটি ঘাসের ক্ষেতের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উদঘাটনে ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত এবং গ্রেপ্তার আসামির দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আরও কারা জড়িত এবং তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত এখনও চলমান। তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর