শিরোনাম
শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ

সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের হিসাব জব্দের নির্দেশ

সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের হিসাব জব্দের নির্দেশ

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থ ও জনবল দিয়ে সহায়তার অভিযোগে অন্তত ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা পাঠিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তালিকায় দেশের কয়েকটি শিল্পগ্রুপের মালিক, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক কর্মীদের নাম রয়েছে। তাঁদের বেশির ভাগই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অথবা দলটির সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

তবে তালিকাভুক্ত কয়েকজনের ব্যাংক হিসাব ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) বিভিন্ন সংস্থার মামলায় আগেই জব্দ করা হয়েছে। তাঁদের কেউ কারাগারে এবং কেউ দেশের বাইরে থাকায় অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত মঙ্গলবার এনবিআরের এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির চেয়ারম্যান আহসান হাবিব কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, বিশেষ একটি কারণে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা বিভাগ ৩৪ ব্যক্তি ও ৩৪ পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দ করছে।

রাজস্ব বোর্ডের সূত্রের দাবি, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের অভিযোগে ১২টি শিল্পগ্রুপের মালিকের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছেন সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু মুনশি। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন।

একই অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমানের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বেসরকারি বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, রেনেসাঁ গ্রুপের মালিক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, হামিদ গ্রুপের মালিক ও সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম, নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী, অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ টুলু, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম মোশাররফ হোসেন এবং গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুমা খাতুন লিপা।

মিরপুর এলাকায় শ্রমিক আন্দোলনে অর্থ জোগানোর অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাংক হিসাবও জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাগনে আলিফ মোল্লা, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী মাহবুবুর রহমান জুয়েল, স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মী কামাল গাজী এবং শুভ নামে এক ব্যক্তি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের আরও দাবি, অনলাইনে আন্দোলন সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তাঁর নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫টি হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপ এবং ফেসবুক পেজের মাধ্যমে আন্দোলনের বিভিন্ন স্থানের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করছেন প্রায় ১৫০ ব্যক্তি। এ ঘটনায় বাহাউদ্দিন নাছিমের ব্যাংক হিসাবও জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতার পেছনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ইন্ধন রয়েছে। এ কাজে কয়েকজন শিল্পমালিকও জড়িত—সরকারের কাছে এমন তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলে জানান তিনি।

ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোকে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশনা ই-মেইলে পাঠানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর