কাগজের ওপর আঁকা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। কোথাও লাল-সবুজের পতাকা, কোথাও গ্রামের বাড়ি, চারপাশে সবুজের ছোঁয়া। শিশুদের ছোট ছোট হাতে আঁকা এসব ছবিতে ফুটে উঠেছে তাদের চেনা জগৎ, দেশপ্রেম আর সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন। ছবিগুলো হাতে নিয়ে আনন্দে দাঁড়িয়ে ছিল শিশুরা। তাদের এই সৃজনশীলতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শান্তির বার্তা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ পৌরসভার নারাঙ্গাই এলাকায় ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শিশুদের নিয়ে এমনই এক আয়োজন করে লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ড্রিম সিটি। শান্তির জন্য পোস্টার প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সেখানে ছিল এতিম শিশুদের মধ্যে খাবার বিতরণ, বিনা মূল্যে ডায়াবেটিস ও রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা, থেরাপি সেবা, মাদক ও ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম। এ ছাড়া বৃক্ষরোপণ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
শিশুদের ছবি আঁকার এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাদের সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি শান্তি ও সম্প্রীতির চর্চায় উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় প্লে বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে সাবিত, রাহাত ও সারা। নার্সারি বিভাগে প্রথম হয় তাসমিয়া, দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ এবং তৃতীয় রাফা।
অনুষ্ঠানে শিশুদের জন্য শান্তির বার্তার পাশাপাশি উঠে আসে মাদক থেকে দূরে রাখার বিষয়টিও। অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী।
তিনি বলেন, ‘আপনি সারাদিন ব্যবসা, চাকরি কিংবা অন্যান্য কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেন। কিন্তু আপনার সন্তান কী করছে, কার সঙ্গে মিশছে, নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে কি না এবং স্কুল থেকে ঠিকমতো ফিরছে কি না, সেসব বিষয়ে খোঁজ রাখতে হবে। আপনার সন্তান মাদকাসক্ত হলে শুধু আপনিই ভুগবেন না, এর ভোগান্তির শিকার হবে সমাজ ও রাষ্ট্রও।’
নবম শ্রেণির পাঁচ শিক্ষার্থীকে আটকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মহরম আলী বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানতে পেরেছেন, ওই পাঁচ শিক্ষার্থীই মাদক সেবন করে। তাঁদের অভিভাবকদের মধ্যে একজন জেলার বড় ব্যবসায়ী, তিনজন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং একজন গৃহিণী। অথচ সন্তানদের মাদক সেবনের বিষয়ে অভিভাবকেরা জানতেন না বলে উল্লেখ করেন তিনি। সন্তানদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখার ওপর গুরুত্ব দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ড্রিম সিটির সভাপতি প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ ফারুক হোসাইন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী মো. সামসুর রহমান, সাবেক সচিব এজাজ আহমেদ, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মামুন, শিউলী আক্তার, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান লিটন, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, মানিকগঞ্জ সিআরপির অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুল ইসলাম এবং নওখন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক হাকিম আলী প্রমূখ।