দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্যাম্পে বসবাসরত উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ ও আবাসন সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেছে স্ট্যান্ডেড পিপলস জেনারেল রিহ্যাবিলিটেশন কমিটি (এসপিজিআরসি)।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, শুধু নাগরিকত্ব বা স্বীকৃতি দিলেই হবে না; শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ একজন নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য সব অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ক্যাম্প থেকে মাদক নির্মূল, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান এবং নারী-শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিরও দাবি জানান তাঁরা।
রোববার (৩০ আগস্ট) নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এসপিজিআরসির তিন দিনব্যাপী কাউন্সিলের শেষ অধিবেশনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলার প্রায় ৭০টি ক্যাম্পের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
কাউন্সিলের শেষ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন এসপিজিআরসি সৈয়দপুর শাখার সভাপতি রিয়াজ আকবর। বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাজী এম. শওকত আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক সোহেল আকতার খানসহ বিভিন্ন জেলার ক্যাম্পের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসরত উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে সংকটের মধ্যে বসবাস করছে। সংকীর্ণ জায়গায় একাধিক প্রজন্মের মানুষের বসবাস, পর্যাপ্ত আবাসন ও নাগরিক সুবিধার অভাব তাঁদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তাঁরা বলেন, ক্যাম্প উচ্ছেদ বন্ধ, আবাসন সংকট নিরসন, ইতিহাস ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং নারী ও শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
এসপিজিআরসির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হবে, যারা অবহেলিত বিহারি জনগোষ্ঠীর সমস্যাগুলো সরকারের উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরবে।
তিনি বলেন, অনেক ক্যাম্পে কয়েক ফুট জায়গার মধ্যে তিন প্রজন্মের মানুষকে বসবাস করতে হচ্ছে। কোথাও একই ছোট ঘরে রান্না, গোসল ও ঘুমানোর মতো পরিস্থিতিও রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।
এর আগে ২৫ আগস্ট এসপিজিআরসির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও নেতা মরহুম আলহাজ্ব এম. নাসিম খানের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালনের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী কাউন্সিলের কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।