শিরোনাম

রায়পুরা রেলগেটে যানজটের আইন আছে, প্রয়োগ নেই

রায়পুরা রেলগেটে যানজটের আইন আছে, প্রয়োগ নেই

নরসিংদীর রায়পুরায় যানজট নিরসনে প্রশাসনের নির্ধারিত নিয়ম থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ না থাকায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। শ্রীরামপুর রেলগেট, হাসিমপুর বাজার, রায়পুরা বাসস্ট্যান্ডসহ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে দিনের বেলায় ভারী যানবাহন চলাচল এবং যত্রতত্র ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজি পার্কিংয়ের কারণে প্রায়ই তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রায়পুরা পৌর এলাকায় ভারী যানবাহন, বাস, ট্রাক ও ট্রাক্টর প্রবেশ নিষিদ্ধ। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রতিদিনই বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক ও ভারী যানবাহন পৌর এলাকায় প্রবেশ করছে। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী, পথচারীসহ সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রীরামপুর রেলগেট এলাকায় কোনো রেলক্রসিংয়ের কারণে যানজট না থাকলেও সড়কের পাশে ও বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশা-সিএনজি দাঁড় করিয়ে রাখা এবং ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কে যানবাহনের গতি ধীর হয়ে যাচ্ছে। এতে রেলগেট থেকে আশপাশের সড়ক পর্যন্ত যানজট ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয় সুমন বলেন, “প্রায় ২০ মিনিট ধরে রোগী নিয়ে শ্রীরামপুর রেলগেটের জ্যামে বসে আছি। কোনো রেলক্রসিং বা অন্য সমস্যা নেই। যত্রতত্র ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পার্কিং এবং সিমেন্ট ও বিভিন্ন কোম্পানির ট্রাকের কারণে এই যানজট তৈরি হয়েছে।”

রহমত আলী নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, রায়পুরা গোলচত্বর থেকে সেতুর আগ পর্যন্ত দূরত্ব সর্বোচ্চ ৩০০ গজ। অথচ এই সামান্য পথ পাড়ি দিতে ১৫ মিনিটের বেশি সময় লেগেছে। যত্রতত্র অটোরিকশা ও সিএনজি পার্কিং এবং ইচারমাথা সড়ক দিয়ে ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে যানজট বাড়ছে। তিনি দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যানজট নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি ও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি হচ্ছে না। ফলে “আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই”—এমন বাস্তবতার মধ্যেই যানজটের ভোগান্তি বাড়ছে।

এ বিষয়ে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা টাইমস টুডেকে বলেন, “আমাদের যে নিষেধাজ্ঞা সেটি আছে। আমরা আবারও মোবাইল কোর্ট চালু করব, যেন কেউ এই আদেশ কোনোভাবেই অমান্য করতে না পারে।”

তিনি আরও বলেন, সপ্তাহে দুই দিন হাট বসায় ওই সময়গুলোতে এলাকায় বেশি ভিড় হয়। এ কারণে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দুইজন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি নয়, তা বাস্তবায়নে নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা হলে রায়পুরার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেলগেট এলাকার যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর