শিরোনাম
উচ্ছ্বসিত ঠাকুরগাঁও

নাট্যমঞ্চ থেকে রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনায় মির্জা ফখরুল

নাট্যমঞ্চ থেকে রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনায় মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আলোচনায় আসায় তার জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল, শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

ঠাকুরগাঁওয়ের কালীবাড়ি, চৌরাস্তা, গড়েয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ জড়ো হয়ে মির্জা ফখরুলকে শুভেচ্ছা জানান। রাষ্ট্রপতি পদে তাকে দেখতে চান—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন অনেকে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শিক্ষকতা, সংস্কৃতিচর্চা ও রাজনীতির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবনে তিনি রাজনীতির পাশাপাশি নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৯০ সালে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান শক্ত হয়। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় কৃষি এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে দলটির মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি দলের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, মির্জা ফখরুলের মতো একজন প্রবীণ রাজনীতিকের নাম রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় আসা ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে তিনি সক্ষম হবেন বলে তাদের প্রত্যাশা।

ঠাকুরগাঁও পৌর বিএনপির সভাপতি শফিরুল ইসলাম শরিফ বলেন, তৃণমূলের রাজনীতি ও পৌরসভা থেকে উঠে আসা মির্জা ফখরুল আজ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্বের আলোচনায় এসেছেন। তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা দেশের জন্য কাজে লাগবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক ত্যাগের পর মির্জা ফখরুল যে সম্মানের জায়গায় এসেছেন, এতে পুরো ঠাকুরগাঁওবাসী আনন্দিত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পেলে তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে দেখতে পারলে তা ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য গৌরবের হবে বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে মির্জা ফখরুলকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা অব্যাহত রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি পদে তাকে নিয়োগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর