কৃষির আধুনিক প্রযুক্তি ও সময়োপযোগী তথ্য সহজ ভাষায় দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের কার্যকর ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। কৃষকদের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে তথ্যবহুল, আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য গণমাধ্যম বিষয়বস্তু তৈরির পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে ।
গতকাল রংপুরে কৃষি তথ্য সার্ভিসের আঞ্চলিক সম্মেলন কক্ষে ‘উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন গণমাধ্যম বিষয়বস্তু ব্যবহার করে কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের ধারণা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। কৃষি তথ্য সার্ভিস, রংপুর এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, পরিচালক কৃষিবিদ মসীহুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. এস. এম. আবু বকর সাইফুল ইসলাম।
স্বাগত বক্তব্যে কৃষি তথ্য সার্ভিস, রংপুরের আঞ্চলিক বেতার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহাদৎ হোসেন কৃষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন গণমাধ্যম বিষয়বস্তু তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ বিষয়ে তিনি অংশগ্রহণকারীদের মতামত আহ্বান করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অংশীদার কর্মসূচি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ফরিদপুর অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ পরিবীক্ষণ কর্মকর্তা হাফিজ হাসান। তিনি কৃষি ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের কার্যকর বিষয়বস্তু ব্যবহারের বিভিন্ন দিক ও এর সুফল উদাহরণসহ তুলে ধরেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, কৃষির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের তথ্যের চাহিদাও বাড়ছে। ফলে শুধু তথ্য প্রচার করলেই হবে না, কৃষকের প্রয়োজন ও সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে তা সহজ ভাষায় উপস্থাপন করতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য পৌঁছাতে পারলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণে কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়বে।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা সময়োপযোগী ও তথ্যবহুল কৃষি তথ্য প্রচারের ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানান। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও কৃষকদের বাস্তব সমস্যা গণমাধ্যমে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
ধানের প্রধান অতিথি মসীহুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাত প্রতিনিয়ত উন্নত হচ্ছে। এই অগ্রগতিকে আরও বেগবান করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন সব দপ্তর ও সংস্থার মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের নিয়মিতভাবে ‘কৃষি কথা’য় লেখা দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতি, ড. এস. এম. আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, তথ্য এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে তা সহজেই মানুষের বোধগম্য হয়। কৃষি তথ্য প্রচারে সহজ, সঠিক ও নির্ভুল তথ্য প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।